নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের কামরের মোড় থেকে মোহরকয়া গোরস্থান অভিমুখী সড়কটি চরম খানাখন্দ, কাদা-পানি ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির যথাযথ সংস্কার না হওয়া এবং স্থানীয় খামারগুলোর বর্জ্য রাস্তায় ফেলায় এটি বছরজুড়েই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকে।
সরজমিনে গিয়ে যায়, গ্রামীণ এই সড়কটির বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে জমে রয়েছে নোংরা পানি ও প্যাচপ্যাচে কাদা। চাকার দেবে যাওয়া গর্ত ও গভীর খাদ পার হয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন পথচারী, বয়োবৃদ্ধ, স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় যানবাহন। সামান্য বৃষ্টি হলেই বা স্বাভাবিক সময়েও পুরো রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে দুর্ভোগ বাড়ায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রাস্তাটির দুইপাশে কয়েকজন প্রভাবশালী ও স্থানীয় বাসিন্দার মহিষের খামার রয়েছে। খামারের যাবতীয় গোবর, আবর্জনা ও বিষাক্ত ময়লা পানি সরাসরি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখে রাস্তার ওপর ভাসিয়ে দেয়া হয়। ফলে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ এবং পুরো রাস্তা জুড়ে গোবর ও কাদার মিশ্রণে চলাচলের একদম অযোগ্য অবস্থা তৈরি হয়। এতে স্বাভাবিক পদচারণা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ডেঙ্গুসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্গন্ধজনিত ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইয়াকিন আলী বলেন, মোহরকয়া গোরস্থান অভিমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ চলাচল করেন, বিশেষ করে এই গ্রামের মানুষের বিলমাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া এবং মোহরকয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে লাশ নিয়ে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এটি।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত সড়কটির পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার সাথে সাথে খামারিদের অনিয়মতান্ত্রিক বর্জ্য নিষ্কাশন বন্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে চরম দুর্ভোগ নিরসনে রাস্তাটি দ্রুত পাকা ও টেকসই সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন চরম ভোগান্তিতে থাকা স্থানীয় সাধারণ জনগণ।
মন্তব্য