মহান আল্লাহ তায়ালা শা‘বানের মধ্যরজনী, যা লাইলাতুল বারাআত নামে পরিচিত, এ রাতে তাঁর বান্দাদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তবে এই ক্ষমা লাভের জন্য কিছু নির্দিষ্ট করণীয় পালন এবং কিছু গুনাহ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক বলে আলেমরা উল্লেখ করেছেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে, এ রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আকাশে নেমে এসে বান্দাদের ক্ষমা করেন। তবে শিরিককারী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী, মা–বাবার অবাধ্য ব্যক্তি, হিংসা-বিদ্বেষ পোষণকারীসহ কিছু গুনাহে লিপ্তদের এই সাধারণ ক্ষমা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়।
আলেমদের মতে, শা‘বানের মধ্যরজনীতে কুরআন তিলাওয়াত, নফল নামায, যিকির-আযকার, দু‘আ ও ইস্তিগফারে মশগুল থাকা উত্তম আমল। পাশাপাশি কবর জিয়ারত করা এবং মৃত আত্মীয়স্বজনের জন্য মাগফিরাত কামনা করাও সাওয়াবের কাজ। তবে এ রাতে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বা ধরা-বাঁধা নিয়মে নফল নামায আদায়ের বিষয়ে সহিহ হাদিসে প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি বা বিদ‘আত থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লাইলাতুল বারাআতের পরদিন রোযা রাখা নফল ইবাদত হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে শা‘বানের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখা ফজিলতপূর্ণ বলে আলেমরা মত দিয়েছেন।
এছাড়া এ উপলক্ষে বিভিন্ন কুসংস্কার ও অইসলামি কার্যকলাপ পরিহারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শিরিক থেকে সম্পূর্ণভাবে বেঁচে থাকা, মা-বাবার নাফরমানি না করা এবং তাঁদের কষ্ট না দেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। কারণ মা-বাবার অবাধ্যতা কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য।
হাদিসের আলোকে টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নেশা করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং হিংসা ও বিদ্বেষ পরিত্যাগ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলেমরা বলেন, এসব গুনাহ ও অপকর্ম থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারলেই একজন মুমিন আল্লাহ তায়ালার রহমত ও ক্ষমা লাভের যোগ্য হতে পারে।
মন্তব্য