নাটোরের বাগাতিপাড়ায় পৈতৃক সম্পত্তির অংশ চাইতে গিয়ে চার বোন ও দুই ভাবি মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগাতিপাড়া পৌরসভার টুনিপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—মৃত মজির উদ্দিনের মেয়ে অযুফা বেগম (৭০), আনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), ফিরোজা বেগম (৪৫), মৃত শাকের আলীর স্ত্রী নাসিমা বেগম (৫০) এবং সাইদুর আলীর স্ত্রী গোলাপি বেগম (৪০)।
আহতদের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বুঝে নিতে জমিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তছির উদ্দিনের ছেলে আনিছ ও মাওলা তাদের মারধর করেন। মারধরের পর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
আহতদের ভাষ্য, টুনিপাড়া মহল্লার মৃত তছির উদ্দিন ও মৃত মজির উদ্দিনের ওয়ারিশদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছে। সালিশে তাদের জমির অংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
আহত অযুফা বেগম বলেন, “আমরা গরিব ও অসহায়। আমি অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাই। বাবার প্রায় তিন বিঘা জমি তাদের কাছে পাওনা রয়েছে। এ নিয়ে কয়েকবার সালিশ হয়েছে। সালিশে জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পরে আর জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। সোমবার জমির অংশ চাইতে গেলে আমাকে, আমার বোনদের ও দুই ভাবিকে মারধর করা হয়।”
অপর আহত ফিরোজা বেগম অভিযোগ করেন, মারধরের পাশাপাশি তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মইমুর সুলতান অন্যদের তাদের হাত-পা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং থানায় বা হাসপাতালে যেতে নিষেধ করেছেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইমুর সুলতান। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে তারা নয় শতক জমি পাবে বলে আমি জানি। আমরা সব ভাই মিলে জমি বের করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি দেশের বাইরে ছিলাম, গতকাল দেশে ফিরেছি। কিন্তু তারা আজই জমিতে খুঁটি পুঁততে যায়। আমার ভাই তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে, মারধর করেনি। হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সত্য নয়।”
অভিযুক্ত আনিছও মারধর ও হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আহতরা পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সালিশে নির্ধারিত সম্পত্তির অংশ বুঝিয়ে দিয়ে বিরোধের স্থায়ী সমাধানেরও দাবি জানান তারা।
মন্তব্য