রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী খোর্দ্দ বাউসা পূর্ব পাড়া এলাকায় ঘটে এমন হৃদয় বিদারক ঘটনা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। নিহত গৃহবধূ নাম জান্নাতুল ফেরদৌস জুশি (২৫)। নিহত গৃহবধূ জুথী বাগাতিপাড়া উপজেলার মালিগাছা নিমপাড়া এলাকার লুৎফর রহমান মেয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয় নিয়ে নিজ স্বনকক্ষে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জুশির স্বামী জহুরুল হক ধারালো হাঁসুয়া/বঠি জাতীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন এবং একপর্যায়ে তার বউ জুথীর শরীর থেকে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ভাবে আঘাত লাগে ফলে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র আরও জানা যায়, হত্যার ঘটনার পর ঘাতক স্বামী জহুরুল পালিয়ে যায় বলে জানা যায়। এ ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত গৃহবধূ জুশি ২ সন্তানের জননী একটির বয়স ১০ বছর ও আপর সন্তানের বয়স ১ বলে জানা যায়, এবং নিহতের পরিবার এই শোকে কাতর হয়ে পড়েছে।
ঘাতক জহুরুলের চাচা ছানার বলেন, জহুরুল খুব খারাপ ছেলে না তবে তার রাগ বেশি সে কেন বিষয়ে রেগে গেলে নিজেকে নিযন্ত্রণে আনতে পারে না। তবে তার বউ সন্তানদের খুব ভালো বাসতেন বলেও জানান তিনি। আজকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি মানুষ ডাক চিৎকার শুনে তার বাড়ির দিকে এগিয়ে যায় এই সময় জহুরুলকে আমি বাড়ি থেকে জরে বাহিরে আসতে দেখি। আমি ভেতরে গিয়ে দেখি বউ মায়ের রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে। মেয়ে টি খুবই ভালো ছিলো তবে জহুরুলের অনেক ঋণ ছিলো সে অনেক এনজিও ও সুদের ওপর ও টাকা নিয়ে ছিলো এবং তারাও তাদের কিস্তি টাকার জন্য চাপ দিত।
অপর এক প্রতিবেশি বাবু বলেন, জহুরুল ছেলে হিসেবে ভালো সবার সাথে ভালো ব্যবহার করতেন কিন্তু সে যে এমন একটি কাজ করবে ভাবতে পারি নি। সে মাঝে মাঝে মানুষের জমিতে কৃষি কাজ করতেন তবে তার ঋণ ছিলো অনেক তিনি বলেন গল্প সুত্রে জহুরুল বলেন প্রতিমাসে আমার ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা কিস্তি টাকা লাগে।
এ ঘটনায় এলাকার সকলের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে বাঘা থানার পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এবিষয়ে বাঘা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মন্ডল বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ম-র-দেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে অভিযুক্ত জহুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য