নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আগুনে পুড়ে গুরুতর আহত সাব্বির মোল্লা (২৩) গত ১৬ দিন ধরে ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।আগুনে তার শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে গেছে।
চিকিৎসায় প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে তার পরিবার। এ অবস্থায় সাব্বিরের চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছে পরিবারটি।
সাব্বির মোল্লা উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের বাজিতপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সবুজ মোল্লার ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর মোটরসাইকেলের ফুটো হওয়া ট্যাংকে নেগেটিভ-পজিটিভ আঠা লাগানোর সময় ব্যাটারির স্পার্কিং থেকে আগুন ধরে যায়। এতে সাব্বিরের শরীরের অধিকাংশ অংশ ঝলসে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে গত ১৬ দিন ধরে তার চিকিৎসা চলছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকরা আরও ১৫ থেকে ২০ দিন চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ব্যয় হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি এই চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাব্বিরের দাদা আফাজ মোল্লা বলেন, “নাতির অবস্থা ভালো নয়। চিকিৎসকরা আরও কয়েক সপ্তাহ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলেছেন। কিন্তু প্রতিদিনের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকেও যতটুকু পেরেছি সহযোগিতা নিয়েছি। এখন সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন।”
তিনি বলেন, সাব্বির অল্প বেতনে স্থানীয় এক ডিলারের মালামাল দোকানে দোকানে সরবরাহ করতেন। সেই আয় দিয়ে স্ত্রী ও এক শিশু কন্যাকে নিয়ে কষ্টে সংসার চালাতেন। বর্তমানে তিনিই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।
সাব্বিরের স্ত্রী লামিয়া খাতুন বলেন, “আমার স্বামীই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিনিই এখন আগুনে পুড়ে হাসপাতালে পড়ে আছেন। প্রতিদিন অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। পরিবারের সামর্থ্য প্রায় শেষ হয়ে গেছে। সমাজের হৃদয়বান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে আমার স্বামীর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা কামনা করছি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, সাব্বিরের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। আগুনে তার শরীরের অধিকাংশ পুড়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে। তার চিকিৎসা চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ
আফাজ উদ্দিন মোল্লা (দাদা)
০১৩২৫-১৯৫০১০
মন্তব্য