গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ জালিয়াতি, ভুয়া ঋণপত্র তৈরি ও অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে নাটোরে সোনালী ব্যাংকের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাটোর সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- লিটন কুমার, বিপুল পাল, এইচ এম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামান।
তারা সবাই প্রিন্সিপাল অফিসার পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
ব্যাংক সুত্রমতে গত ২২ সেপ্টেম্বর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ব্যাংক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, লিটন কুমারের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের প্রায় ৯২ লাখ সাত হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিপুল পালের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
নাটোরে কর্মরত থাকার সময় তারা বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের নাটোর থেকে বদলি করে নওগাঁ জেলায় পদায়ন করা হয়। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নেয়।
এদিকে বরখাস্ত হওয়া অপর তিন কর্মকর্তা-এইচ এম রোকনুজ্জামান, হাফিজুর রহমান ও মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অর্থের ভুয়া ঋণপত্র তৈরি এবং অতিরিক্ত আমানত সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। তারা নাটোরের বিভিন্ন শাখায় কর্মরত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে এসব কর্মকর্তা ব্যাংকের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নাটোর সোনালী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) আহসান রেজা এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মন্তব্য