নাটোরের সিংড়া উপজেলায় চাহিদামতো সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে সারের জন্য কৃষকদের লাইন দেখা গেছে। বুধবার লালোর ইউনিয়নের ডাকমন্ডপ বাজারে সার সংগ্রহ করতে সকাল থেকেই একটি ডিলারের দোকানে ভিড় করেন শত শত কৃষক। এ সময় বরাদ্দ করা সার বিতরণ নিয়ে অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে কৃষি বিভাগের হস্তক্ষেপে শুরু হয় সার বিক্রি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ডাকমন্ডপ বাজারে মেসার্স সরদার ট্রেডার্সের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে সার বিতরণ নিয়ে অভিযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিনয় কুমার। তিনি সরেজমিনে সার বিক্রির কার্যক্রম তদারকি করেন এবং নির্ধারিত মূল্যে বরাদ্দ করা সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণের নির্দেশনা দেন।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ফসলের মাঠে সার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না তারা। কোনো কৃষকের ১০ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও তাকে মাত্র দুই বস্তা দেওয়া হচ্ছে। এতে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ ও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
কৃষকরা জানিয়েছেন, ওই ডিলারের কাছে টিএসপি ১৬ টন, ডিএপি ৩৭ টন ও এমওপি ১৮ টনসহ মোট ৭১ টন সার বরাদ্দ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সার মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৪২০ বস্তা সার পাওয়ার কথা। তবে ডিলারের পক্ষ থেকে মাত্র ৩০০ বস্তা সার এসেছে বলে জানানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে সন্দেহ ও অসন্তোষ তৈরি হলে দোকানে জড়ো হন শত শত কৃষক।
একাধিক কৃষক জানান, জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পেলে ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বরাদ্দ করা সার প্রকৃত কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ এবং সার বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান ।
লালোর ইউনিয়নের সার ডিলার আব্দুস সাত্তার বলেন, তিনি যে পরিমাণ সার পেয়েছেন, তা সন্ধ্যার মধ্যেই বিতরণ করবেন। চাহিদার তুলনায় সার কম থাকলে তার কিছু করার নেই।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিনয় কুমার বলেন, তথ্য পেয়ে আমরা দ্রুত এখানে আসি। কোনো সার লুকিয়ে রাখার সুযোগ দেওয়া হবে না। সরকারি নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যেই পুরো ৭১ টন সার কৃষকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, সার বিতরণ কার্যক্রমে অস্বাভাবিক ভাবে ভীড় বৃদ্ধি পায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে সার বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য