admin
১০ অগাস্ট ২০২৫, ৭:২৫ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

কাপড়-যন্ত্রপাতির চক্রে বন্দি পোশাক শ্রমিকের জীবন

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পোশাক শিল্প। লক্ষ লক্ষ শ্রমিকের কঠোর পরিশ্রম ও নিঃস্বার্থ শ্রমের মাধ্যমেই এই শিল্প আজ আন্তর্জাতিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিয়েছে।

তবে এই অর্জনের আড়ালে রয়েছে এক নির্মম বাস্তবতা—সুঁই, সুতা, কাপড় আর যন্ত্রপাতির ঘূর্ণাবর্তে বন্দি হয়ে আছে এসব শ্রমিকের জীবন। প্রতিদিন রুটিনমাফিক ক্লান্তিকর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তাঁরা সচল রাখছেন দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রকে।

প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার বিস্তারে বাড়ছে অটোমেশন, কমছে শ্রমিকের প্রয়োজন। এতে যেমন উৎপাদনশীলতা বাড়ছে, তেমনি কমছে কর্মসংস্থান। শ্রমঘণ্টা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে শ্রমিকদের অধিক সময় কাজ করতে হয়। কিছু কারখানায় অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হলেও অধিকাংশ জায়গায় শ্রমের মূল্যায়ন যথাযথ হয় না।

পোশাক শিল্পে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত থাকলেও তা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ফলে অধিকাংশ শ্রমিকই বাজারের উর্ধ্বমুখী দামে অসহায় হয়ে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে—কিছু কারখানায় এখনো শ্রম আইন মেনে মজুরি ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয় না।
পোশাক কারখানার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন কয়েকজন শ্রমিক।

আশুলিয়ার হামীম গ্রুপে কর্মরত সালমা বেগম বলেন, “আমার বড় বোন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে দেখতে যেতে পারিনি। অফিসে জরুরি শিপমেন্ট থাকায় ছুটি পাইনি। যখন হাসপাতাল থেকে বাসায় আনা হয়, তখন গিয়ে দেখি। গার্মেন্টসে যারা চাকরি করে, তাদের জীবনে পরিবার, পরিজন, সখ কিছুই থাকে না।”

হাবিব নামে আরেক শ্রমিক বলেন, “গত ৮ বছর ধরে কাজ করছি। মাস শেষে যা বেতন পাই, তা হাতে রাখার সুযোগই হয় না। দোকান বাকি, বাসা ভাড়া, ওষুধের খরচ, বাড়িতে মা-বাবার জন্য কিছু পাঠাতে হয়—সব শেষে নিজের জন্য কিছুই থাকে না।”

রেশমা আক্তার, এক নারী শ্রমিক বলেন, “স্বামীর সংসার ভেঙে যাওয়ার পর সমাজের নানা কথার মুখে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে চাকরি নেই। কাজের চাপে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগও হয় না। সারা সপ্তাহ তো দূরের কথা, দুই ঈদ ছাড়া বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় না।”

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব, দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করা, ধুলাবালি ও সুতার কণার কারণে তাঁরা শ্বাসতন্ত্রের রোগ, চোখের সমস্যা ও নানান স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোগেন।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়—কম মজুরি, অনিরাপদ পরিবেশ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও একাকীত্বের বোঝা নিয়ে পোশাক শ্রমিকরা এক কঠিন জীবন-সংগ্রামে লিপ্ত।

পোশাক শিল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাত হলেও এর মূল চালিকাশক্তি শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রয়োজন মালিকপক্ষ, সরকার ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সম্মিলিত উদ্যোগ। ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও মানবিক কর্মব্যবস্থাই হতে পারে পোশাক শ্রমিকদের জীবনের স্বস্তি ফেরানোর পথ।

মন্তব্য

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চারঘাটে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ

১

নলডাঙ্গায় ট্রেনের ধাক্কায় এক ব্যক্তির মৃত্যু

২

চারঘাটে নবাগত ওসির সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

৩

ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সুপরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে – হুইপ দুলু

৪

গাইবান্ধাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে রাজশাহীর জয়

৫

পুলিশের যৌথ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেপ্তার সাজাপ্রাপ্ত আসামি

৬

বগুড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ পরিবার সোসাইটির স্মরণসভা

৭

বগুড়ার মিডিয়া কাপ টি-টেন ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন

৮

বগুড়ায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সঙ্গে শাখা ব্যবস্থাপকদের মতবিনিময় সভা

৯

বগুড়ায় বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

১০

চারঘাটে জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত

১১

ঈশ্বরদীতে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রি, ব্যবসায়ীকে জরিমানা

১২

আত্রাইয়ে আগুনে পুড়ে নিঃস্ব ফেরদৌসকে সহায়তা দিল উপজেলা প্রশাসন

১৩

আদমদীঘিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা

১৪

নাটোর রেলস্টেশনে জার্মান তরুণের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চুরি

১৫

নওগাঁয় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক নিহত, আহত-৪

১৬

নাটোরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, প্রধান শিক্ষক’কে অনির্দিকালের ছুটি

১৭

সুমাইয়া’ সেজে প্রবাসীর সঙ্গে প্রেম, বাবা-ছেলে আটক

১৮

‘শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক’ নির্বাচিত হওয়ায় মিনারুল ইসলামকে এমপি’র ফুলেল শুভেচ্ছা

১৯

বগুড়া মহানগরে দীর্ঘ যানজট, কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন

২০