এক মাসেও উদ্ধার হয়নী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সামিহা; উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় অপহরণের শিকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৪) উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে তার পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের প্রধান ফটকের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ওই কিশোরীকে অপহরণের এক মাস হতে চললেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে তাকে উদ্ধার করছে না। পরিবারের সদস্যরা বারবার থানা পুলিশের কাছে গিয়ে অনুরোধ করেও কোনো সাড়া পাচ্ছেন না।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়ে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই কিশোরীর বাবা। তিনি বলেন, আমার শিশুকন্যাকে গত ২৬ অক্টোবর মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে গেছে একদল মাদক কারবারি। আমার কন্যা কেমন আছে, কোথায় আছে, তার কিছুই জানতে পারছি না। প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন করছি, তারা যেন আমার মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়।
এছাড়াও মিজানুর রহমান বলেন, রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) স্যারকে জানালে তিনি আমাকে বলেন, যারা আমার মেয়েকে অপহরণ করে তুলে নিয়ে গেছে তাদের সঙ্গে আপস মীমাংসা করতে।
এ সময় মানববন্ধনে সামিহার শিক্ষক প্রভাষক নাজমুল হক মুক্তা বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ আমরা আশা করতে পারি না প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী আচরণে। আমরা আমাদের মেয়েকে ফেরত চাই। প্রশাসনের যদি গাফিলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন বলেন, উদ্ধার হয়নি, তবে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আশা করি, খুব দ্রুত উদ্ধার হয়ে যাবে। এছাড়াও ছয়জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছিল এর মধ্যে ৫ জন জামিনে রয়েছেন, ১ জন পলাতক রয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর ওই কিশোরীকে অপহরণের পরদিন তার বাবা বাদী হয়ে পুঠিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। এতে হৃদয় (২৪), শরিফুল ইসলাম (৪৫), রোজিনা বেগম (৪০), সেলিম (৩০), নোমান (২২), এন্তাজ মণ্ডলসহ (৪০) তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত তাঁরা কেউ গ্রেপ্তার হননি।
মন্তব্য