রাজশাহী বাঘায় উপজেলার বিভিন্নস্থানে একই দিনে তিন জায়গায় দেশি/বিদেশি অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (০৮ ডিসেম্বর) ভোরবেলা আনুমানিক ০৫:৫৫ থেকে ৯ টা পর্যন্ত চলে উপজেলার ০৩ স্থানে এই ছিনতাই । এর মধ্যে দু’জন হলো সবজি ব্যবসায়ী ও একজন এনজিও কর্মী। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে আনুমানিক ০৫:৫৫ টার দিকে পীরগাছা (বারোভাগিয়া) এলাকার মৃত খোস মোহাম্মদ আলীর ছেলে সবজি ব্যবসায়ী মোঃ বাদশা আলী সাথে। তিনি বলেন আমি তেঁথুলিয়া বাজারে সাপ্তাহিক সোমবার হাটে ভোরে সবজি নিয়ে বিক্রি করতে যায়। আমি বটগাছ পারে রুব্বাস বাড়ি পার হয়ে মূল সড়ক দিয়ে যখন তেঁথুলিয়া বাজারে দিকে যাচ্ছি সেই সময় মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত আমার পথরোধ করে। সে সময় তার সঙ্গে ছিলো ধারালো রাম*দা ও একটি পিস্তল তাদের সারা শরীল পোষাকে.. ছিলো ফলে তাদের চিনতে পারি নাই। পরে তারা আমার পকেট থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন ও ২৪০০ (চব্বিশ শত) ছিনিয়ে নেয়, এবং দ্রুত তারা তাদের মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে তেঁথুলিয়ার রাস্তর দিক দিয়ে পালিয়ে যায়।
দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে আনুমানিক ০৬:২০ টার দিকে আড়ানী পৌরসভার গোচর এলাকার মৃত: মজির প্রাঃ ছেলে সবজি ব্যবসায়ী মোঃ হান্নান আলীও তেঁথুলিয়া বাজারে সাপ্তাহিক সোমবার হাটে ভোরে সবজি নিয়ে বিক্রি করতে যায় । তিনি বলেন আমি আড়ানী-তেঁথুলিয়া রোড়ে কড়ইতলা উচু সাড়ো পার হয়ে (চাকবাউসা-রাজার মোড়) এলাকায় যেতেই মোটরসাইকেলে করে দুইজন লোক আমার পথরোধ করে। তাদের কাছের ছিলো ধারালো রাম*দা ও চাইনিজ কুড়াল তাদের সারা শরীল পোষাকে ঢাকা ছিলো ফলে তাদের চিনতে পারি নাই। পরে তারা আমার পকেট থেকে স্যামসাং বাটন ফোন ও নোকেয়া বাটন ফোন মোট দু’টি মোবাইল ও নগদ ১৪০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়, এবং দ্রুত তারা তাদের মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে চলে যায়।
তৃতীয় ঘটনাটি স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, বাউসা ইউনিয়নের দিঘা বাজার পরে মরঘাটির নমক স্থানে এক এনজিও কর্মীর পথ একই স্টাইলে রোধ করে ছিনতাইয়ের পর্যায়ে গেলে এবং তাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করতেই ওই এনজিও কর্মী তার মোটরসাইকেল গিয়ার বাড়িয়ে পাশ কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
উভয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে তাদের বর্ণনা শুনে বোঝা যে যারা এবং ভুক্তভোগীরা বলেন এই ০৩ টি কাজ যারা পরিচালনা করেছেন তারা একই ব্যক্তি। উক্ত ঘটনায় ৩ এলাকার মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিছু সুধীজন বলেছেন এমন ঘটনা নির্বাচন পর্যন্ত চলতেই থাকবে এখন’ই প্রশাসন কে দ্রুত এই প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে নয়লে এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলবে।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ সেরাজুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন এখনো কেন লিখিত অভিযোগ থানাই পাইনি, তবে এ বিষয়ে আমি একাধিক মাধ্যমে জানতে পেরেছি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি । বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি থাকলে তার ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে। অভিযোগ পেলে ছিনতাইকারীদের শনাক্তে অভিযান শুরু হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভোররাতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও সুধীজন’রা।
মন্তব্য