নাটোর-২ (সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী গণসংযোগে অংশ নেওয়া নারী কর্মীদের ওপর হামলা, হুমকি ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার দুপুরে নাটোর শহরের মাদরাসা মোড় এলাকায় জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম রাসেল বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই জামায়াত শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মতভাবে গণসংযোগ শুরু করে।
তিনি অভিযোগ করেন, সকাল ১১টার দিকে নাটোর-২ আসনের ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মো. ইউনুস আলীর ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে ছাতনি সেন্টার মোড়ে নারী কর্মীরা গণসংযোগ করছিলেন। এ সময় বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হয়ে নারী কর্মীদের পথরোধ করেন। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি প্রদান করেন। এমনকি ওই এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে নারী কর্মীদের উদ্ধার করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ঘটনার পর একই দিন ছাতনি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম হুমকি দিয়ে বলেন, জামায়াতের কোনো ব্যানার বা ফেস্টুন এ এলাকায় টাঙাতে দেওয়া হবে না; টাঙানো হলে তা ছিঁড়ে ফেলা হবে।
এ ছাড়া মঙ্গলবার রাতে নাটোর শহরের বন বেলঘরিয়া বাইপাস ও বড়হরিশপুর বাইপাসসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের ব্যানার-ফেস্টুন লাগাতে গেলে বাধা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
জামায়াতের দাবি, নারী কর্মীদের টার্গেট করে নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অশালীন আচরণ নির্বাচন আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থী বা কর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ, নৈতিক ও আইনের শাসনভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে নারীদের নির্বাচনী কাজে বাধা দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এ সময় নির্বাচন কমিশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে নারীসহ সকল নেতা-কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের শহর শাখার আমির রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, সেক্রেটারি আলী আল মাসুদ মিলনসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য