নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের দুই বাল্যবন্ধু মোঃ রফিকুল ইসলাম ও শামসুল ইসলাম। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাশাপাশি কৃষিকাজেও গড়ে তুলেছেন সফলতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাড়ির পাশের পাশাপাশি জমিতে গত সাত বছর ধরে তারা করে আসছেন কচু চাষ। অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এখন তারা এলাকায় আদর্শ কচু চাষি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
জানা গেছে, শামসুল ইসলাম ৩৩ শতাংশ এবং রফিকুল ইসলাম ১৬ শতাংশ জমিতে কচু চাষ করেছেন। শুরুতে লাভের পরিমাণ কম থাকলেও কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় এখন তাদের কচু চাষ লাভজনক হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে কথা হলে দুই চাষি জানান, কচু চাষে নিয়মিত পরিচর্যা ও পরিশ্রম করতে পারলে ভালো আয় করা সম্ভব। প্রতি বিঘা জমিতে লিজসহ মোট খরচ হয় প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। তবে কচুর লতি ও কাঠ কচু বিক্রি করে আয় হয় দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বিঘায় লাভ থাকে প্রায় এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা।
তারা আরও জানান, সাধারণত প্রতি বছর কচুর লতি বিক্রির টাকাতেই উৎপাদন খরচ উঠে আসে। পরবর্তীতে কাঠ কচু বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যায়, সেটিই মূল লাভ। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪ হাজার পিস কাঠ কচু উৎপাদন হয়। বাজারে প্রতিটি কাঠ কচু ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় সেখান থেকেই লাভের বড় অংশ আসে।
তবে বাজারে সবজির দামের ওঠানামার কারণে লাভের হিসাব কিছুটা কমবেশি হয় বলেও জানান তারা।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, আধুনিক পদ্ধতিতে কচু চাষ করে রফিকুল ও শামসুল এলাকায় অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন। কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কচু চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য