রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় এক কলেজ শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে বিএনপির এক কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তির নাম টিপু সুলতান (৩০)। তিনি বাঘা উপজেলার আড়ানী গোচর গ্রামের ঝুন্টু সর্দারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিপু সুলতান বিগত সরকার আমলে আওয়ামী লীগের কর্মী ছিলেন। তবে সরকার পতনের পর তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে চলাফেরা করছিলেন।
ভুক্তভোগী কলেজ অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে আড়ানী পৌর বাজারসংলগ্ন এলাকায় তাঁর নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলছিল। এ সময় মোটরসাইকেলে করে টিপু সুলতান সেখানে এসে মিস্ত্রীদের কাজ বন্ধ করতে বলেন। কাজ বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তিনি বিএনপির এক সিনিয়র নেতার নাম ভাঙিয়ে তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে টিপু সুলতান তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন বাঘা থানার উপ-পরিদর্শক হারুন ইসলাম। আশপাশে ভিড় ও হৈচৈ দেখে তিনি ঘটনাস্থলে থামেন এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে টিপু সুলতানকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
আরও জানা যায়, আটক টিপু সুলতান ভুক্তভোগী অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের স্ত্রীর চাচাতো ভাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আড়ানী পৌর বিএনপির এক নেতা বলেন, “টিপু সুলতান আগে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত ছিল। সরকার পতনের পর সে বিএনপির রাজনীতিতে ঢুকে পড়ে এবং কিছু নেতাকে ম্যানেজ করে তাদের সঙ্গে চলাফেরা শুরু করে।”
এ বিষয়ে আড়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোজাম্মেল হক বলেন, “বর্তমানে অনেকেই দল পরিবর্তন করছে। তবে টিপু নামের কাউকে আমি চিনি না। সে আমাদের দলের সঙ্গে যুক্ত—এমন তথ্যও আমার জানা নেই।”
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানান, “ঘটনাটি সত্য। অভিযুক্ত টিপু সুলতানকে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্তব্য