হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট সাইদুল হক(৪০)মাদক সহ গ্রেফতার হয়েছে।
এ সময় সেনাবাহিনী গ্রেফতারকৃত সাইদুলহক এর কাছ থেকে ৮৪পিস ইয়াবা,আড়াইশ গ্রাম গাঁজা ও ৮ পিস ইয়াবা কন্ট্রোলার ও ১লিটারের ১টি বিদেশি মদের বোতল,ফুয়েল পেপার০৪ পিস,মোবাইল ফোন ০৪ টি,দেশী কেচি ২ টি ও ইয়াবা বিক্রির ১টি নোট খাতা উদ্ধার করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সূত্রে জানাযায়,৯ আগষ্ট(শনিবার)রাত ১০টায় বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের আর্মি ক্যাম্প থেকে একদল সেনা সদস্য উপজেলা সদরের ১নং উওর পূর্ব ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের দওপাড়া গ্রামে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সাইদুলহকের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।
তাদের অভিযানকালে কুখ্যাত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী সাইদুলহককে উল্লেখিত মাদক ও সরঞ্জাম সহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাইদুল হক দত্তপাড়া গ্রামের মোঃআব্দুল হক মিয়ার পুত্র।
পরে তাকে বানিয়াচং থানার ডিউটি অফিসার এসআই রুপক দাস এর নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য,সাইদুল হক দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে কামিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
দু’টি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ সকল ধরনের মাদকের পাইকারি ও খুচরা সেইল দিয়ে যুব-সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে।
এই মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য এলাকায় চুরি,ছিনতাই,ডাকাতি সহ নানান ধরনের অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই শীর্ষ মাদক সম্রাটের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানা সহ বিভিন্ন থানায় ১৭ থেকে ১৮টি মামলা রয়েছে।
এসব মামলার মধ্যে ইয়াবাসহ চুরি,ছিনতাইয়েরও মামলা রয়েছে।
এমনকি র্যাবের কাছেও ১০০০পিছ ইয়াবা বিক্রিকালে গ্রেফতার হয়।
এছাড়াও ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন থানা পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয় এই শীর্ষ মাদক সম্রাট সাইদুলহক।
এসব মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই পুরোদমে শুরু করে কারবার ।
কোটি টাকা কামিয়ে নিজ বাড়িতে তৈরী করেছে আলিসান ২য় তলা বৈশিষ্ট্য বাড়ি।
বাড়ির পাশে ২০ ফুট উচ্চতা দিয়ে তৈরী করেছে বাউন্ডারি।পুরো বাড়ি ঘিরে রেখেছে নিজের নিরাপত্তার জন্য।
গত বছরের ৫ আগষ্টের রাতে বানিয়াচং থানার(এসআই শন্তুস) পুলিশ সদস্য হত্যার সাথে জড়িত থাকার ও অভিযোগ রয়েছে।
৫ আগষ্টের পর বানিয়াচং থানা পুলিশের হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা সহ গ্রেফতার হয়।
৩/৪ মাস হয় স্ত্রীর চিকিৎসার কাগজ পত্র দেখিয়ে এবং সিলেট ম্যাডিকেল ভর্তী রয়েছে এমন তথ্য উপাত্ত দিয়ে আইনজিবী দ্ধারাতে জামিনে বেরিয়ে আসে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
কারাগার থেকে বের হয়েই শুরু করে পুরোদমে ইয়াবা সহ সকল ধরনের মাদকের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা।
এমনকি বানিয়াচং উপজেলার সকল মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পাইকারি ধরে মাদক সংগ্রহ করে দিয়ে যাচ্ছিলো এই শীর্ষ ইয়াবা সম্রাট সাইদুলহক।
এছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলা আজমিরীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদক সরবরাহ করে আসছিলো বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সময়ের সহযোগী এক শ্রমিক।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)গোলাম মুস্তফা সাইদুলহক গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,তিন চার মাস পূর্বেও তার পুলিশ ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেছিলেন কিন্তু আইনের ফাঁকফোকরে বেরিয়ে এসেই তারা ব্যবসায় নেমে পড়ে।
তবে আমাদের পুলিশ তালিকা অনুযায়ী মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।
এছাড়াও সাইদুলহককে মাদক আইনে মামলা দিয়ে রবিবার দুপুরে হবিগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মন্তব্য