রাজশাহীর মোহনপুরে ১৩ এনজিও থেকে ঋণ নেয়া আকবর আলী শাহ (৫৫) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সকালে বাড়ির পাশের একটি পান বরজে গলায় দড়ি দেয়া অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঋণগ্রস্থ কৃষক আকবর আলী উপজেলার খাড়ইল গ্রামের লুকমান আলীর ছেলে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠান। মোহনপুর থানা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের পরিবার জানান, ভোরে বাড়ির পাশের পান বরজে যান আকবর আলী। কিছুক্ষণ পর তার বড় ছেলে সুমন হোসেন ছয়জন শ্রমিক নিয়ে ঐ পান বরজে কাজ করতে যান। সেখানে গিয়ে তার বাবাকে দেখতে না পেয়ে খোজাখুজি করেন। খোজাখুজির একপর্যায়ে পাশের পান বরজে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় তার বাবাকে দেখতে পান। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান বড় ছেলে।
প্রতিবেশীরা জানান, আকবর আলী ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম বিভিন্ন এনজিওর সাথে জড়িত। সেগুলো থেকে তিনি ঋণ নিয়ে ছিলেন। তার বাড়ি থেকে ১৩টি এনজিও পাস বই পাওয়া গেছে। এ সব এনজিও থেকে নেওয়া প্রায় ৭ লাখ টাকা ঋণ বেধে যায়। ঋণ নিয়ে এনজিওগুলোর চাপে ছিলেন তিনি। পানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি দিতে পালছিলেন না তিনি। এ নিয়ে তিনি মানুষিক চাপে ছিলেন।
মোহনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আকবর আলী ঋণগ্রস্ত ছিলেন। মানুষিক অশান্তি থেকে হয়তো তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। আগের রাতে পান বরজে শ্রমিক লাগবে বলে পরিবারের সাথে আলোচনা করেন। রাত পোহালেই এঘটনা ঘটে। আকবর আলীর লাশ সুরতহাল রিপোর্টের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য