গোডাউনে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে প্রাথমিকের বই
অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের লালপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাজারো নতুন পাঠ্যবই দীর্ঘদিন ধরে গোডাউন ও অফিসকক্ষে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার বিআরডিবি (বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড) গোডাউনে এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হলরুমে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত কয়েক হাজার বই স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে লালপুর উপজেলায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ১০০ কপি বই আসে। এর মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার ২০ কপি বিতরণ করা হলেও ৪ হাজার ৮০ কপি উদ্বৃত্ত থেকে যায়। একইভাবে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৫০ কপি বই বিতরণ করা হলেও উদ্বৃত্ত থেকে যায় আরও ১৩ হাজার ৫৭৫ কপি। এসব বই বর্তমানে শিক্ষা অফিস ও ভাড়া নেওয়া গোডাউনে রাখা আছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. নার্গিস সুলতানা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফাইজুল ইসলাম বলেন, “বইগুলো পরে অধিদপ্তর টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়ে যায়। প্রতিটি উপজেলাতেই উদ্বৃত্ত বই থেকে যায়।”
এদিকে অভিভাবক মো. সাইদুল হক অভিযোগ করে বলেন, “প্রতি বছর নতুন বই সংকটে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনায় ভোগে। অথচ অব্যবস্থাপনার কারণে হাজারো নতুন বই নষ্ট হচ্ছে। এতে সরকারের অর্থ যেমন অপচয় হচ্ছে, শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
নাটোর জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী আগে থেকেই তালিকা দেওয়া হয়। তারপরও কেন চাহিদার অতিরিক্ত বই আনা হয়, তা তদন্ত করা উচিত। এটি কর্মকর্তাদের অবহেলার শামিল।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম নবী বলেন, “উপজেলা থেকে যে চাহিদা পাঠানো হয়, সেই অনুযায়ী বই বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাঠ্যসূচি পরিবর্তন না হলে উদ্বৃত্ত বই পরবর্তী বছরে বিতরণ করা হয়। আর পরিবর্তন হলে কর্ণফুলী পেপার মিলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান, চলতি বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বই সংকট দেখা দেওয়ায় বগুড়া থেকে অতিরিক্ত বই আনতে হয়েছে। “এত পরিমাণ উদ্বৃত্ত বই থাকা অস্বাভাবিক, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
মন্তব্য