রাজশাহীর বাঘায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবকে ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় প্রতিমা শিল্পীরা। দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণে কারিগরদের দিন-রাতের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। আঠালো মাটি, বাঁশ, খড়সহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাঘা শাখার তথ্যানুযায়ী, এ বছর উপজেলায় মোট ৪৬টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে বাঘা পৌরসভায় ১১টি, আড়ানি পৌরসভায় ১৩টি, মনিগ্রাম ইউনিয়নে ৪টি, বাউসা ইউনিয়নে ১০টি, আড়ানি ইউনিয়নে ২টি, পাকুড়িয়া ইউনিয়নে ২টি, গড়গড়ি ইউনিয়নে ৩টি এবং বাজুবাঘা ইউনিয়নে ১টি মন্ডপ রয়েছে। গত বছর উপজেলায় ৪৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সংখ্যা ২টি কমেছে।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর (রবিবার) শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠী পূজা এবং ২ অক্টোবর শুভ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয় দুর্গোৎসবের।
প্রতিমা শিল্পী গণেশ কুমার মালাকর জানান, তিনি বাঘা, বনপাড়া, বড়াইগ্রাম, বাগমারা (তাহেরপুর), গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ৩২টি প্রতিমা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। চারজন সহকর্মী নিয়ে দিন-রাত এক করে প্রতিমা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিমার আকার ও সাজসজ্জা অনুযায়ী পারিশ্রমিক নির্ধারিত হয় বলেও তিনি জানান।
বলিহার উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সম্পাদক বিধান চন্দ্র সরকার বলেন, “আমরা ১৯৭১ সাল থেকে এ মন্ডপে পূজা উদযাপন করে আসছি। প্রায় এক মাস আগেই প্রতিমা তৈরি সম্পন্ন করেছি এবং পূজার সব প্রস্তুতিও শেষ হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় নিরাপত্তার পরিবেশও যথেষ্ট ভালো রয়েছে।”
এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আসাদুজ্জামান জানান, পূজা চলাকালে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সর্বদা তৎপর থাকবে। সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্যরা প্রতিটি মন্দিরে নজর রাখছেন।স্থায়ীভাবে পুলিশ মোতায়েন করা হবে কিনা—তা পুলিশ সুপারের মিটিং শেষে চূড়ান্তভাবে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য