কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে জন্মের মাত্র দু’দিন পর থেকেই দুধ দিচ্ছে একটি বকনা বাছুর! প্রায় এক মাস ধরে বাছুরটি নিয়মিতভাবে দৈনিক প্রায় আধা লিটার করে দুধ দিচ্ছে। এ ব্যতিক্রমী ও বিরল ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আশপাশের গ্রাম থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন বাছুরটি দেখতে।
ঘটনাটি ঘটেছে করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের চরকরণশী গ্রামে। স্থানীয় খামারি হারুন-অর-রশিদের খামারে এক মাস আগে ফ্রিজিয়ান জাতের একটি গাভী প্রথমবারের মতো একটি বাছুরের জন্ম দেয়। জন্মের দুইদিন পর খামারি লক্ষ্য করেন, বাছুরটির স্তন (ওলান) অস্বাভাবিকভাবে ফুলে আছে এবং হাত দিয়ে চাপ দিলে দুধ বের হচ্ছে।
প্রথমে তিনি নিজেই হতবাক হয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা বিষয়টিকে অলৌকিক বলেই মনে করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, খামারির বাড়িতে এখন মানুষের ভিড় লেগেই আছে। কেউ ভিডিও করছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউবা দুধ চেখে দেখছেন। খামারির পরিবারের সদস্যরাও এ দুধ পান করছেন। তাদের দাবি, দুধ দেখতে ও খেতে একদম গাভির দুধের মতোই।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মান্নান বলেন,”বাছুরটি দুধ দিচ্ছে—এটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। আমি নিজেও সেই দুধ খেয়েছি। আল্লাহর কুদরত ছাড়া আর কিছু নয়।”
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল তালুকদার বলেন,”এমন ঘটনা আমার দীর্ঘ কর্মজীবনে এই প্রথম দেখলাম। এটি অত্যন্ত বিরল। হতে পারে হরমোনজনিত কোনো অস্বাভাবিকতা বা জেনেটিক কোনো কারণ। বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
দুধ ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া বলেন,”আমি ৪৫ বছর ধরে দুধের ব্যবসা করি। কিন্তু এত অল্প বয়সী কোনো বাছুরকে দুধ দিতে কখনো দেখিনি। এটা সত্যিই ব্যতিক্রম।”
খামারি হারুন-অর-রশিদ জানান,”২০২৩ সালে ৭৫ হাজার টাকায় ফ্রিজিয়ান গাভীটি কিনেছিলাম। সেই গাভীর বাছুরই জন্মের পর থেকে দুধ দিচ্ছে। আমি এবং আমার শিশুসন্তান এই দুধ খাচ্ছি। আল্লাহর রহমত বলেই মনে করি।”
এই অস্বাভাবিক এবং বিরল ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন অলৌকিক, কেউ বলছেন জিনগত ব্যতিক্রম। তবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে ব্যাখ্যার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য