নাটোরের সিংড়া উপজেলার ৩ নং ইটালি ইউনিয়নের বনকুড়ি খাসপাড়ার মানুষের জীবনে এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সেই উন্নয়নের প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি কাঁচা রাস্তা।
উপজেলার বনকুড়ি বাজার থেকে শুরু হয়ে খাসপাড়া হয়ে তুলাপাড়া বাশবাড়িয়া পর্যন্ত এই রাস্তাটি প্রতিদিন ব্যবহার করেন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। বর্ষা এলেই এই রাস্তা যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে ওঠে। কাদাপানিতে ভরে যাওয়া রাস্তায় তখন পায়ে হাঁটাও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে। একপ্রকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয় বনকুড়ি ও আশপাশের গ্রামগুলো।
কৃষিপণ্য ও মাছ পরিবহনেও সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয় বলে জানালেন চাষি ও মৎস্যচাষিরা। প্রায় ৩০-৩৫টি পুকুরের মাছ এবং শত শত বিঘা জমির ফসল প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই আনা-নেওয়া হয়। শুকনো মৌসুমে ইজিবাইক বা রিকশা চলতে না পারলেও বর্ষায় যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এই রাস্তায় যাতায়াতে সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েন রোগীরা। বনকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম (৫০) জানান, সম্প্রতি গ্রামের মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪০) সন্ধ্যায় মাঠ থেকে ফেরার সময় বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে মারা যান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আবার অঞ্জলি নামের এক নারী বুকের ব্যথায় কাতরালেও কাদার রাস্তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসী বলেন, “এই একটি রাস্তা আমাদের সব দুর্ভোগের কারণ। বারবার বলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আমরা দ্রুত রাস্তার সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে ইটালি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মখলেছুর রহমান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য কুরবান আলী বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা আছে, আমরা চেষ্টা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দ্রুত এই রাস্তা পাকা করার উদ্যোগ নিতে।”
বনকুড়ি, খাসপাড়া ও বাশবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দারা এখন আশায় আছেন, কত দিনের দুর্ভোগের অবসান হয় – এমন একটি পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হবে শিগগিরই।
মন্তব্য