রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় খাল খনন না হওয়া এবং অপরিকল্পিতভাবে তিন ফসলি কৃষিজমিতে পুকুর খননের ফলে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার বিঘা উর্বর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, কমে যাচ্ছে ফসল উৎপাদনও।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ভালুকগাছি, জিউপাড়া ও শিলমাড়িয়া ইউনিয়নে গত এক দশকে আবাদি জমির অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় পুকুর খনন করা হয়েছে। কোথাও খাল ও বিলের মুখ বন্ধ করে পুকুর তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও সরকারি খাস জমিও দখল হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন।
এ অবস্থার কারণে খালের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে বর্ষা মৌসুমে জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এখন আর আগের মতো ফসল ফলানো যাচ্ছে না।
ভালুকগাছি এলাকার কৃষক রেজাউল করিম বলেন, “আমাদের এলাকার দুইটি বিলে প্রায় দুই থেকে তিনশ’ বিঘা জমি এখন অনাবাদি পড়ে আছে। আগে এসব জমিতে ধান, পাট, সবজি—সবই হতো। এখন জলাবদ্ধতার কারণে কিছুই হয় না। সরকার যদি খালগুলো খনন করে দেয়, আমরা আবার চাষাবাদে ফিরতে পারব।”
আরেক কৃষক ফিরোজ আলম জানান, “খালগুলো দ্রুত খনন না করলে কৃষকদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। আমরা চাই, দখলমুক্ত করে খালগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হোক।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, “উপজেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আগামী মৌসুম থেকে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে নতুন করে পুকুর খননের অনুমতি দেওয়া হবে না।”
মন্তব্য