নওগাঁর আত্রাইয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় রবি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সরকার ঘোষিত এ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষক এক বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় বীজ ও সার পাচ্ছেন। ধাপে ধাপে মোট ৫ হাজার কৃষকের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ সম্পন্ন হবে।
এই প্রণোদনার আওতায় গম, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন পেঁয়াজ, মুগ ও মসুর—এই সাতটি ফসলের জন্য কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বণ্টন তালিকা অনুযায়ী:
গম: ৪০০ জন কৃষককে ২০ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার।
সরিষা: ৪,৪০০ জন কৃষককে ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার।
সূর্যমুখী: ২০ জন কৃষককে ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার।
চিনাবাদাম: ১০০ জন কৃষককে ১০ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার।
শীতকালীন পেঁয়াজ: ২০ জন কৃষককে ১ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার।
মুগ: ১০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার।
মসুর: ৫০ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরে আলম সিদ্দিক। তিনি বলেন,
“বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা এই প্রণোদনার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার। তিনি বলেন,
“আমরা প্রতিটি কৃষককে এক বিঘা জমির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ দিচ্ছি। উন্নতমানের বীজের সঙ্গে ডিএপি ও এমওপি সারের সঠিক ব্যবহার ফসলের গুণগত মান ও উৎপাদন বাড়াবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনসুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. নাসির উদ্দিন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাকসুদুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল রানাসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ প্রমুখ।
মন্তব্য