রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় থাই, চাইনিজ ও কেনিয়া জাতের বাতাবি লেবু চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা তোহিদুজ্জামান রিপন (৪১)। আধুনিক পদ্ধতিতে উন্নত জাতের লেবু চাষ করে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
তোহিদুজ্জামান রিপন বাঘা উপজেলার আড়ানী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সোনাদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত নবাব আলী সরকারের সন্তান। কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকে ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে বাতাবি লেবু চাষ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে বাঘা উপজেলায় ২ বিঘা এবং পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলায় ৩ বিঘা জমিতে মোট ৩শ টি থাই, চাইনিজ ও কেনিয়া জাতের বাতাবি লেবুর গাছ রয়েছে তার বাগানে।
কৃষি উদোক্তা রিপন বলেন, উন্নত জাতের এসব বাতাবি লেবুর ফল আকারে বড়, রসালো এবং বাজারে চাহিদা অনেক বেশি। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করায় গাছগুলো দ্রুত ফলন দিচ্ছে। ইতোমধ্যে আমি এক মৌসুমে লেবু বিক্রি করেছি বাজারে এই জাতের বাতাবিলেবুর বেশ কদর রয়েছে এর একটির ওজন ১কেজি থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই ফলটি দেখতও বেচ আকর্ষনীয়, আমি এই চলতি মৌসুমে গাছে বেশ আশানুরূপ ফুল পেয়েছি তাতে আমি ধারণা করছি গাছ প্রতি কম হলেও আমি ২০০০ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবো মোট ৩শ টি গাছে এই সিজনে মোট ৬,০০০০০ (ছয় লক্ষ) টাকার ফল বিক্রি করবো । সেই সাথে আমি এই চাষে আগ্রহী কৃষকদের চারা ও পরামর্শও দিচ্ছি ।
তিনি আমাদের জানান, এ চাষাবাদের শুরুর দিকে সাধারণ জনগনের অনেক কটু কথা শুনেছেন। কিন্তুু শত প্রতিকুলতার পরেও নিজের সিদ্ধান্তে থেকেছে অটল। লেবু চাষে ব্যাপক সফলতার স্বপ্ন বুনছেন তিনি।
এ বিষয়ে চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল-মামুন হাসান বলেন, “থাই, চাইনিজ ও কেনিয়া জাতের বাতাবি লেবু আমাদের দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ মানানসই। তোহিদুজ্জামান রিপনের বাগানটি একটি সফল মডেল। এই ধরনের বাণিজ্যিক ফল চাষে কৃষকরা এগিয়ে এলে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।”স্থানীয় কৃষকরাও রিপনের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে বাতাবি লেবু চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ মনে করছে, এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ফল চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং কৃষকরা লাভের মুখ দেখবেন।
মন্তব্য