ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে এখন আলোচনায় আছে সংসদের সংরক্ষিত নারী এমপি নির্বাচন নিয়ে। গেজেট অনুযায়ী ৩৫টি সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপি জোট পাবে। সংরক্ষিত নারী আসনে এমপি চূড়ান্ত করতে মনোযোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
খুঁজছেন দীর্ঘদিন রাজপথের ত্যাগী, নির্যাতিত, শিক্ষিত ও পরীক্ষিত কর্মীকে। মূলদল ও মহিলাদলের পাশাপাশি অতীত ও বর্তমান ছাত্রদল করা সিনিয়র নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছে। বর্তমান ছাত্রদলের মধ্যে আলোচনায় আছে কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইডেন কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব, সানজিদা ইয়াসমিন তুলি। সানজিদা ইয়াসমিন তুলি ছাত্রদলের গত কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাছাড়া জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মানিত সদস্য।
তুলি একজন ক্যান্সারের রোগী হয়েও আন্দোলন সংগ্রামে কখনো পিছনে ছিলেন না। এমন একজন সংগ্রামী নেত্রীকে বাংলাদেশে মানুষ সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই। তাছাড়াও তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক গনতান্ত্রিক আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রায় শতভাগ উপস্থিত থেকে কর্মসূচি পালন করার কারনে মানুষ মাঝেও তার গ্রহন যোগ্যতা রয়েছে অনেক বেশি।
তুলি বাবা ছিলেন নাটোর জেলার লালপুর উপজেলায়র ২ং ঈশ্বরদী ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং লালপুর উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি ছিলেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তুলির বাবার সারাজীবন বিএনপির জন্য এবং সাবেক এমপি ও মন্ত্রী পটল সাহেবের জন্য কাজ করে গেছেন। বাবা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি হওয়ায় তুলি ছোট বেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। তবে কলেজে ভর্তির পর থেকেই তিনি ছাত্র রাজনীতির সক্রিয় ভাবে জড়িত, রাজপথের রাজনীতি করেছেন, করেছে ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রাম। আন্দোলন সংগ্রামে বহুবার হামলা-মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে থাকার কারণে ছাত্রলীগের দ্বারা হামলায় আহত হন। ২০২১ সালের ১ লা মার্চ পুলিশের দ্বারা প্রেসক্লাবে সামনে হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিলেন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ২০২২ সালের ২৪ শে মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বরে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের লোহার রোড দ্বারা হামলায় করে রক্তাক্ত করে, যা সারা বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে।
সানজিদা ইয়াসমিন তুলি আন্দোলন সংগ্রামে সবসময়ই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনের মহাসমাবেশে পুলিশের হামলার পর সকল হরতাল অবরোধ উপস্থিত থেকেছেন সামনে থেকে। বিগত জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে। ৫ আগষ্ট ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ভোর থেকেই প্রেসক্লাব ও মৎস্যভবণের সামনে পুলিশের সাথে লড়ায় করে।
সানজিদা ইয়াসমিন তুলি বলেন বিগত আন্দোলন সংগ্রামে যারা মাঠে ছিল তাদেরকে যেহেতু দল এবার নারী সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ণ করবে সেদিক থেকে বিবেচনা করলে অবশ্যই আমি প্রাপ্য। আমার নামে পল্টন থানা এবং রমনা থানায় দুইটা মামলাও রয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান যদি আমাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ দেন তবে আমি সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করবো এবং নিজেকে দেশের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ্।
সানজিদা ইয়াসমিন তুলি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় ছিল না তাই ক্ষমতায় আসার জন্য বিভিন্ন হিসাব নিকাশের কারণে তখন অনেক ত্যাগীদের হয়তো নমিনেশন দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা দলের নেতাকর্মীরা মেনে নিয়ে নির্বাচন করেছে, তবে দল এখন ক্ষমতায় এসেছে, তাই যারা দীর্ঘদিন রাজপথের রাজনীতির সাথে জড়িত, ত্যাগী, নির্যাতিত, মামলা-হামলার স্বীকার তাদের মূল্যায়নের সুযোগ এসেছে এবং দল তাদের মূল্যায়ন করবে।
মন্তব্য