নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর তীরঘেঁষা এনায়েতপুর গ্রামে এখনও টিকে আছে শত বছরের পুরোনো মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন টিকে থাকার লড়াই করছে। বাজারে প্লাস্টিক, স্টিল ও মেলামাইনের পণ্যের বিস্তারে মাটির তৈজসপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো পড়েছে সংকটে।
উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের পালপাড়ায় প্রায় ৮৫টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৮০টি পরিবার বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত। একসময় এখানকার কারিগররা থালা, কলস, গ্লাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরি করতেন। এসব পণ্যের ভালো বাজারও ছিল আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে।
বর্তমানে পালপাড়ার অধিকাংশ পরিবারই দইয়ের ভাঁড় তৈরির ওপর নির্ভরশীল। এনায়েতপুর গ্রামে প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ দইয়ের ভাঁড় উৎপাদন হয়, যার পাইকারি বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, জেলার বদলগাছী, মহাদেবপুর, রানীনগর ও আত্রাই উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। তবে চাহিদা কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও ক্রমেই কমছে।
মৃৎশিল্পী মদন পাল বলেন, আগে মাটির থালা-বাসন, কলস বা পানির গ্লাস তৈরি করে ভালো আয় হতো। এখন এসব পণ্যের চাহিদা অনেক কমে গেছে। তাই আমরা মূলত দইয়ের ভাঁড় তৈরির দিকেই ঝুঁকেছি। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যাওয়া আমাদের জন্য কঠিন।
আরেক মৃৎশিল্পী পরিমল পাল বলেন, বর্তমানে পালপাড়ার বেশিরভাগ পরিবারই দইয়ের ভাঁড় তৈরির ওপর নির্ভরশীল। তবে কেউ কেউ এখনও ঐতিহ্য ধরে রাখতে মাটির অন্যান্য তৈজসপত্রও তৈরি করছেন। মানুষের মধ্যে মাটির পাত্র ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে এ শিল্প আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
মৃৎশিল্পী পূর্ণিমা পাল জানান, একজন কারিগর দিনে শতাধিক দইয়ের পাত্র তৈরি করতে পারেন। কিন্তু মাটি সংগ্রহ, জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে প্রতি পাত্রে লাভ থাকে মাত্র দুই থেকে তিন টাকা। এতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।
মন্তব্য