নাটোরের সিংড়া উপজেলায় বোরো মৌসুমের শেষ সময়ে এসে নতুন সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। তীব্র লোডশেডিংয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংঘবদ্ধ চোর চক্রের দৌরাত্ম্য। এক রাতেই ৭টি সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় প্রায় দুইশ বিঘা জমির সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে আধাপাকা ধান নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার তাজপুর ও শেরকোল ইউনিয়নের পৃথক এলাকায় এসব চুরির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাজপুর ইউনিয়নের শহরবাড়ি গ্রামের উত্তর মাঠ থেকে একযোগে ৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর মধ্যে চারটি ৫-কেভি ও একটি ১০-কেভি ক্ষমতার। ফলে ওই মাঠের প্রায় ১৫০ বিঘা জমির সেচ ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন আলহাজ্ব মো. এবারদ আলী প্রামাণিক, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত হোসেন, সাইদুর রহমান, মনিরুজ্জামান, লুৎফর রহমান ও আব্দুর রউফ।
এদিকে একই রাতে শেরকোল ইউনিয়নের রানিনগর-তেলিগ্রাম বিল থেকে আরও ২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। এর একটি ১০-কেভি ট্রান্সফরমার কৃষক আব্বাস আলীর এবং অন্যটি ৫-কেভি ট্রান্সফরমার গোলাম মোস্তফার। এতে ওই এলাকার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বিঘা জমিতে সেচ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে এক রাতেই প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষকরা জানান, ধান পাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জমিতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন। এখন সেচ বন্ধ থাকলে ধানের শীষ শুকিয়ে ‘চিটা’ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো ফসল নষ্ট করে দিতে পারে। নতুন করে ঋণ নিয়ে ট্রান্সফরমার কেনা ক্ষুদ্র কৃষকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
এছাড়া সম্প্রতি উপজেলায় ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক টহল জোরদার এবং চোর চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাগুলোর বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য