হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে একটি ফুটবল মাঠের দখলকে কেন্দ্র করে কয়েকটি মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), এক সাংবাদিক ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ইনাথখানী মহল্লার ডাক্তার বাড়ির সামনে অবস্থিত একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ফুটবল মাঠকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইনাথখানী মহল্লাসহ আশপাশের এলাকার যুবকরা ওই মাঠে ফুটবল খেলে আসছেন। শনিবার বিকেলে দক্ষিণ নন্দীপাড়া ও ইনাথখানী মহল্লার যুবকদের মধ্যে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ চলাকালে দাসপাড়া, পুরানভাগ ও শেখেরহাটি এলাকার কয়েকজন যুবক মাঠে খেলতে আসেন। এ সময় চলমান খেলা ও পূর্বে অবগত না করার বিষয় নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে দাসপাড়া, পুরানভাগ ও শেখেরহাটি এলাকার কিছু যুবক পরদিন মাঠ দখলের ঘোষণা দিয়ে চলে যান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সর্দার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবগত করা হয় এবং সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে সমাধানের অপেক্ষা না করে রবিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এক পক্ষ মাঠের দিকে অগ্রসর হলে ইনাথখানী ও দক্ষিণ নন্দীপাড়া মহল্লার লোকজনও প্রতিরোধে অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হকের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে ওসি নাজমুল হক আহত হন। কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের পর সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সালমান মিয়া, আকরাম মিয়া, অলিউর রহমান, মোরশেদ মিয়া, মিতু মিয়া, রাজ মিয়া, তামিম মিয়া, ফাহিম মিয়া, নিহাদ মিয়া, বিজয় মিয়া, ইমরুল মিয়া, রুমন মিয়া, লামিম মিয়া, জাহিদ মিয়া, শুলব মিয়া, রহিম মিয়া ও রুহেল মিয়ার নাম জানা গেছে।
আহতদের বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত মোরশেদ মিয়া ও আরিফ পাপ্পুকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সংঘর্ষ শেষে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইনাথখানী মহল্লার শাওন নামে এক কিশোরকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেন। প্রথমদিকে এক পক্ষ আপত্তি জানালেও গভীর রাতে উভয় পক্ষের সর্দার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি সামাল দেওয়া না গেলে পুনরায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার ওসি নাজমুল হক বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় আমি নিজেও আহত হয়েছি। কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকা শান্ত আছে।”
মন্তব্য