সবাই তখন জুম্মার নামাজে। হঠাৎ পাসের হাফেজিয়া মাদ্রাসা থেকে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুনের লেলিহান শিখা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের তীব্রতায় পুড়ে ছাই হয়ে গেল পুরো মাদ্রাসাটি। টিনের চাল থেকে শুরু করে ভেতরে থাকা আসবাবপত্র—সবকিছুই এখন ধ্বংসস্তূপ। কিন্তু এই ভয়াবহতার মাঝেই প্রত্যক্ষদর্শীরা দেখল এক পরম অলৌকিক ও অবিশ্বাস্য দৃশ্য। মাদ্রাসার সবকিছু পুড়ে কয়লা হয়ে গেলেও হেফজোখানায় রাখা অন্তত ২৫টি পবিত্র কোরআন মাজিদ একদম অক্ষত রয়ে গেছে! আল্লাহর কালাম ছুঁতে পারেনি আগুনের উত্তাপ।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া ইউনিয়নের ধরাইল হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুম্মার নামাজের সময় মাদ্রাসাটি পুরোপুরি খালি ছিল। নামাজ চলাকালীন আচমকাই সেখানে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। নামাজ শেষে স্থানীয় বাসিন্দা ও মুসল্লিরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে মাদ্রাসার টিনের চাল, শিক্ষার্থীদের বিছানা-পত্র এবং আসবাবসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাতে গিয়ে চোখ কপালে ওঠে সবার। দেখা যায়, যেখানে কাঠের আলমারি ও অন্যান্য জিনিসপত্র পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে, সেখানে হেফজোখানায় থাকা ২৫টি পবিত্র কোরআন শরিফ সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কোরআন শরিফগুলোর পাতায় আগুনের কোনো আঁচও লাগেনি।
এই অলৌকিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার মানুষের মাঝে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা বলছেন, সব ধ্বংস হয়ে গেলেও মহান আল্লাহর বাণী যে চিরন্তন ও সুরক্ষিত, এই ঘটনা তারই এক জীবন্ত প্রমাণ।
মন্তব্য