জানা যায়, তাজুল ইসলাম ১৯৯০ সালে মহিমারী দাখিল মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। বড় ছেলে তারিকুল ইসলাম শুভ একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কর্মরত, দ্বিতীয় ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত যশোর টেকনোলজি পার্কে কর্মরত এবং একমাত্র মেয়ে তানজিমা ইসলাম সুমি এইচএসসি শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
২০১৬ সালে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে তাঁর ওপেন হার্ট সার্জারি হয়। জীবনের সেই কঠিন সময় পার করে তিনি নতুনভাবে জীবনকে উপলব্ধি করেন। এরপর থেকেই ভ্রমণকে জীবনের অন্যতম আনন্দ হিসেবে বেছে নেন।
২০১৭ সালে মোটরসাইকেলে প্রথম যমুনা সেতু অতিক্রম করে দূরপাল্লার ভ্রমণ শুরু করেন তিনি। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ঢাকা বিভাগ, ২০২২ সালে চট্টগ্রাম বিভাগ, ২০২৩ সালে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ, ২০২৪ সালে বরিশাল ও রংপুর বিভাগ এবং ২০২৫ সালে খুলনা বিভাগ ভ্রমণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা সফরের স্বপ্ন পূরণ করেন।
সম্প্রতি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমণ করেন তাজুল ইসলাম। দুর্গম পাহাড়ি সড়ক ও প্রতিকূল পথ পাড়ি দিয়েও তাঁদের এই ভ্রমণ ছিল আনন্দঘন ও স্মরণীয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, “ছুটি পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ি। নতুন জায়গা দেখি, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হই। ভ্রমণই আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। এখন আমার স্বপ্ন মোটরসাইকেলে ভারত, নেপাল ও ভুটান ভ্রমণ করা। আল্লাহ সুস্থ রাখলে সেই স্বপ্নও পূরণ করতে চাই। এ জন্য সরকারের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছি।”
তাঁর ছেলে তাসনিমুল ইসলাম সুপ্ত বলেন, “বাবা আমাদের শিখিয়েছেন, বয়স কখনো স্বপ্ন পূরণের বাধা নয়। ইচ্ছাশক্তি ও সাহস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।”
স্ত্রী ফেরদৌসী বেগম বলেন, “তাঁর মতো জীবনসঙ্গী পেয়ে আমি গর্বিত। সংসারের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি আমাকে নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ঘুরে দেখিয়েছেন। ভ্রমণ মানুষের জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।”
এ বিষয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আশরাফুল সরদার বলেন, “তাজুল ইসলাম একজন সৎ, পরিশ্রমী ও সাহসী মানুষ। নিজের অর্থায়নে স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করা সত্যিই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাঁর এই অর্জন নতুন প্রজন্মকে দেশকে জানতে ও স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রাণিত করবে।”
হৃদরোগের মতো কঠিন পরীক্ষাকে জয় করে কোনো স্পনসর বা বিশেষ সহযোগিতা ছাড়াই নিজের সাহস, দৃঢ় মনোবল ও ভ্রমণের প্রতি ভালোবাসাকে সঙ্গী করে এগিয়ে চলেছেন তাজুল ইসলাম। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রমাণ করে, বয়স নয়—ইচ্ছাশক্তিই মানুষকে স্বপ্নের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণের পর এখন তাঁর চোখ সীমান্ত পেরিয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের পথে।
মন্তব্য