বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, ঐতিহাসিক নাটোরে উন্নত আবাসন, হাসপাতালসহ সব ধরনের আধুনিক সুবিধা নিশ্চিত করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, সরকার সারা দেশে পর্যটন কেন্দ্র বিকাশের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তার সূচনা নাটোর থেকেই শুরু হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নাটোরের ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
উত্তরা গণভবনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে আমিও জানতাম না যে এখানে এমন একটি ঐতিহ্যবাহী গণভবন আছে। যেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ক্যাবিনেট মিটিং করেছেন। এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটির কথা দেশের অনেক মানুষই জানে না। আমরা এই গৌরবময় ইতিহাস সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই।
পর্যটন শিল্পের বিকাশে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আফরোজা খানম বলেন, সারা দেশে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন করা হবে। উত্তরবঙ্গের মধ্যে নাটোরের মতো এত সমৃদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী জায়গা আর নেই। তাই এখান থেকেই কাজ শুরু করা হচ্ছে।
নাটোরে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন পর্যটক বেড়াতে এলে তার জন্য ভালো মানের থাকার জায়গা প্রয়োজন। এখানে ভালো হোটেলেরও অভাব রয়েছে। আবার একটি মেডিকেল কলেজও নেই। সবকিছু মিলিয়ে নাটোরকে এমন একটি হাবে পরিণত করতে চাই, যেখানে পর্যটকদের থাকা, খাওয়া এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসার সুব্যবস্থা থাকবে। মানুষকে যেন আর ঢাকামুখী হতে না হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের পর্যটন স্থানগুলোকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে দায়িত্ব তাকে দিয়েছেন, সেই আস্থা রাখার চেষ্টা করবেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে মানুষের স্বপ্ন পূরণ করাই তার দায়িত্ব।
এ সময় তিনি নাটোরকে একটি আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, পর্যটন করপোরেশন ও পর্যটন বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য