হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার আলোচিত ৯ হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোস্তফাকে মৌলভীবাজার জেলায় বদলি করা হয়েছে। এ নিয়ে গত এক বছরে বানিয়াচং থানায় তিনজন ওসি বদলি হলেন।
অভিযোগ রয়েছে, গড়িমসি ও ঢিলেঢালা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলছে থানার পুলিশি কার্যক্রম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নবাগত চতুর্থ ওসি হিসেবে আগামী রবিবার দায়িত্ব নেবেন আজমিরীগঞ্জ থানার শিবপাশা ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) মিজানুর রহমান।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী এক দফা ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ ১০ জন প্রাণ হারান এবং শতাধিকের বেশি আহত হন। ওই দিন আন্দোলনকারীরা বানিয়াচং থানা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। পরবর্তীতে থানা ভবন পুনঃসংস্কার কাজ শুরু হয়।
এরপর নতুন করে উপজেলা পরিষদের ভেতরের বিআরডিবি অফিস থেকে থানার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন দায়িত্ব নেন ওসি আমিনুল ইসলাম। মাত্র ১ মাস ৩ দিন দায়িত্ব পালনের পর তিনি বদলি হন। তার স্থলাভিষিক্ত ওসি কবির হোসেনও ৩ মাস ৮ দিন দায়িত্ব পালনের পর বদলি হয়ে যান। পরে মাধবপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বানিয়াচং থানায় যোগ দেন এবং প্রায় ৭ মাস দায়িত্ব পালন করেন।
দায়িত্বকালীন সময়েই তিনি আলোচিত ৯ হত্যাকাণ্ড মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হিসেবে নিযুক্ত হন। তবে তার আমলে পলাতক আসামি কাগাপাশা ইউনিয়ন আ.লীগ নেতা আব্দুল মজিদকে গ্রেফতার করলেও হাতকড়াসহ থানায় আসার পথে পালিয়ে যায় সে। এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
এছাড়াও সম্প্রতি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তিকারী বানিয়াচং সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা পাপন গোপ ও তার চক্রকে গ্রেফতারে ব্যর্থ হয় থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তৌহিদী জনতা ও আলেম সমাজ জনসভায় পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
পরিশেষে, প্রতিশ্রুতি পূরণের আগেই বদলি হলেন ওসি গোলাম মোস্তফা।
মন্তব্য