রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে রাস্তার দু’পাশের প্রায় ২ হাজার ৫০০ শত টি গাছ কেটে উজাড় করে ফেলা হয়েছে।
অপরদিকে নেই কোনো পরিবেশ রক্ষার তোয়াক্কা। সারা দেশে যখন আবহাওয়ার দিমুখী আচরণ তাতে করে মানুষ রোদ বা বৃষ্টির কাছে রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন। ঠিক এই সময়ের মধ্যে বন বিভাগের পক্ষ থেকে টেন্ডার দিয়ে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানের রাস্তার কাজ কেটে সাফ করা হয়েছে। যদি ওই গাছগুলো গড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে বিক্রি করা হয় তাহলে এর মূল্য দাঁড়ায় ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকার মতো।
অপরদিকে গাছগুলোর আনুমানিক বিক্রয় মূল্য বলা হচ্ছে মাত্র কয়েক লাখ টাকা। এসবের সঠিক হিসাব পেতে হলে তথ্য অধিকার আইন অনুসরণ করে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়। উপজেলা জুড়ে সমিতির মাধ্যমে এসব গাছ রোপন করা হলেও সমিতির একজনেও পায়নি কোন টাকা পয়সা।
উপজেলার জিউপাড়া ও ভালুকগাছি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে। যেসব রাস্তায় গাছ কাটা হয়েছে, সেসকল রাস্তায় রোদের ছায়া না থাকায় চলাচলে মানুষের ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দিনের বেলায় রাস্তা দিয়ে চলাফেরা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তার উপর এভাবে গাছ কেটে সড়ক ফাঁকা করায় মানুষের ভোগান্তি আরো একধাপ বেড়ে গিয়েছে, এতে করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষরা। অপরদিকে যেসকল স্থানে গাছ কাটা হয়েছে সেসকল স্থানে কবে কখন পুনরায় গাছের চারা রোপণ করা হবে তা জানা নেই কারোই। গাছগুলো কাটার বছর পড়তে গেলেও এখনো টাকা পায়নি স্থানীয় সমিতির কোন সদস্যরা। গাছ কাটা বা চারা রোপণ করা সম্পর্কে কোন তথ্যই নেই উপজেলা বন কর্মকর্তা ফয়েজ উদ্দিনের নিকট। তিনি জানান তার সাথে কথা বলে লাভ নেই তার স্যার মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা বলতে। ছয় মাস হয়ে গেলেও এখনো তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা করিম সরদার নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার কোনো গাড়ি নাই আমি পায়ে হেঁটে চলি গাছগুলো যখন ছিল তখন একটু শান্তিতে চলাচল করতে পারতাম। এখন গাছ কেটে ফেলায় রোদের মধ্যে হেঁটে চলাচল করতে হচ্ছে। খুব কষ্ট হচ্ছে। আ: গফুর নামে একজন সাইকেল চালক বলেন, গাছ লাগিয়ে তারপর এসব বড় গাছ কেটে ফেলা উচিত ছিল খুব সমস্যা হচ্ছে আমাদের।
এ বিষয়ে পুঠিয়া-দুর্গাপুর, বাঘা ও চারঘাট এই তিন উপজেলায় দায়িত্বে থাকা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, প্রায় আড়াই হাজার গাছ কাটা হয়েছে। সমিতির লোকদের টাকা দেওয়া হয়নি। আমরা গাছের চারা রোপণের কাজ করছি। যদিও গাছের টাকার আয় ও ব্যয়ের হিসাব দিতে নারাজ তিনি। সেজন্য তথ্য অধিকার আইন অনুসরণ করতে বলেছেন।
পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, লিয়াকত সালমান বলেন, আমি যতটুকু জানি গাছ কাটা হয়েছে, চারাও রোপনও করা হয়েছে। তারপরও গাছ কাটা হয়েছে যখন চারাও রোপণ করা হবে।
রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ রফিকুজ্জামান শাহ্ বলেন, আমি আমার অফিসারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তিনি বলেছেন অতো গাছ কাটা হয়নি। তারপরও আমি উপজেলাটি খুব দ্রুত ভিজিট করব। যদি কোন কিছু হয়ে থাকে সেই বিষয়ে আমি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
মন্তব্য