জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আর কোনো স্বপ্ন নেই। নেই কোনো চাওয়া-পাওয়ার হিসাব। শুধু দুবেলা দুমুঠো খাবার, মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় আর শেষ নিঃশ্বাসটা একটু শান্তিতে ফেলার আকুতি। কিন্তু বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর নিয়ে সেই অপেক্ষাও যেন ফুরোচ্ছে না প্রায় শতবর্ষী খয়জান বেগমের।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার হরদমা গ্রামের বাসিন্দা খয়জান বেগম বর্তমানে সিংড়া উপজেলার বিলদহর গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিজের জরাজীর্ণ টিনের ঘরের বারান্দায় তাকে আশ্রয় দিয়েছেন রোহেদা খাতুন (২৩)। তার স্বামী মিসকাত আলী একজন ভ্যানচালক। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও তারা বৃদ্ধার মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিয়েছেন।
প্রায় এক দশক আগে স্বামী আলাল উদ্দিন মারা যান। এরও আগে বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। আত্মীয়-স্বজনের খোঁজখবরও এখন আর নেই বললেই চলে। বয়স ও অসুস্থতার কারণে তিনি নিজে কোনো কাজ করতে পারেন না। ফলে মানুষের সহায়তা আর সরকারের দেওয়া মাসিক ৬০০ টাকার বয়স্ক ভাতাই তার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
বয়সের ভারে চোখে ঝাপসা দেখেন খয়জান বেগম। চলাফেরাও করতে হয় ক্র্যাচের সাহায্যে। মাসে ৬০০ টাকার ভাতায় ওষুধ কেনা তো দূরের কথা, দুবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে জরাজীর্ণ ঘরের বারান্দায় আতঙ্কে কাটে তার দিন-রাত।
আশ্রয়দাতা রোহেদা খাতুন বলেন, “আমার নিজের দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে সংসার চালাই। তারপরও এই নানীর বয়সী অসহায় মানুষটির থাকার জায়গা না থাকায় তাকে আশ্রয় দিয়েছি। আল্লাহ যেন জীবনের শেষ সময়টা অন্তত নিরাপদে কাটানোর সুযোগ দেন, এটাই আমার চাওয়া।”
খয়জান বেগমের দুর্দশার খবর পেয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন দৈনিক দিনকালের বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য কালার আজাদ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৩ হাজার টাকা সহায়তা পাঠান।
সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল সরদার এবং ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম খয়জান বেগমের হাতে ওই অর্থ তুলে দেন।
তারা বলেন, “খয়জান বেগম একা নন। সমাজে এমন অসহায় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা কম নয়। তাদের জন্য শুধু বয়স্ক ভাতা নয়, প্রয়োজন নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত চিকিৎসা, পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠন এগিয়ে এলে এসব অসহায় মানুষের জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে।”
মন্তব্য