ইসলাম ধর্ম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার শিমুল কর্মকারের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে ওলামায়ে কেরাম ও তৌহিদী জনতা। সমাবেশ থেকে অভিযুক্তের বিচার নিয়ে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার দয়ারামপুর বাজার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার ধুপইল বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দয়ারামপুর বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
দয়ারামপুর আশরাফুল উলুম হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি নাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, নাটোর জেলা শাখার সহ-সেক্রেটারি সৈয়দ আতিকুর রহমান, হেফাজতে ইসলাম বাগাতিপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও ফুলবাড়িয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল আহাদ, হেফাজতে ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল আহাদ, প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুফতি তৌহিদ বিন আজহার এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মমতাজ আলী সরকার।
বক্তারা অভিযোগ করেন, শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট করেছেন। তাঁরা বলেন, অতীতেও ইসলাম নিয়ে কটূক্তির ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হলেও ন্যায্য বিচার নিয়ে তাঁদের শঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান এবং বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই রাতে ‘শিমুল’ নামের একটি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র মক্কা ও মদিনার কয়েকটি ছবি বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরে ৫ জুলাই রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শিমুল কর্মকারকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
মন্তব্য