বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশন স্টেশনসংলগ্ন হেলালিয়া হাট এলাকায় রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ ও বসবাসের অভিযোগে পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কাছে প্রায় শতাধিক বাসিন্দার স্বাক্ষরসংবলিত লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার জংশন স্টেশনের পাশে হেলালিয়া হাটসংলগ্ন রেলওয়ের জমিতে বেলাল প্রামানিক নামে এক ব্যক্তি অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই দোকানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, বখাটেদের আড্ডা এবং জুয়ার আসর বসে। এতে পাশের মসজিদের মুসল্লি এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিকবার বেলাল প্রামানিককে সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করে আগের মতোই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ছাতনী সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মিলন সরদার অভিযোগ করে বলেন, প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধ দখল বজায় রেখেছেন। তিনি দ্রুত রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
ছাতনী সরদারপাড়া জামে মসজিদের মুসল্লি দুলাল উদ্দিন বলেন, “রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করার পেছনে কারা রয়েছে, তা আমরা জানতে চাই।”
ছাতনী ঢেকড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, স্কুল ও কোচিংয়ে যাতায়াতের সময় ওই দোকানের সামনে প্রায়ই ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। তাদের ভাষ্য, সেখানে সারাদিন বখাটেদের আড্ডা চলে এবং গভীর রাত পর্যন্ত কেরাম খেলার আড়ালে জুয়া অনুষ্ঠিত হয়। তারা অবিলম্বে দোকানটি উচ্ছেদের দাবি জানান।
সান্তাহার রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পরিদর্শক নুর-এ-নবী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ খায়রুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অভিযুক্ত বেলাল প্রামানিক বলেন, “আমি দখলসূত্রে জায়গাটি কিনেছি এবং রেলওয়ের কানুনগো অফিসে লিজের জন্য আবেদন করেছি।”
এ বিষয়ে সান্তাহার রেলওয়ের ফিল্ড কানুনগো কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অভিযোগসংক্রান্ত চিঠি পাওয়া গেছে। অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উচ্ছেদের সুপারিশ করে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
মন্তব্য