বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন ১৯৯৪ সালের ২ জুলাই বিদ্যালয়ে যোগ দেন। চলতি বছরের ৩০ মে তিনি অবসরে যান। এরপর সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে ২০১৭ সালের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি, যা বিধিসম্মত হয়নি বলে দাবি করা হয়।
নিয়োগের পেছনে তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মো. মাহাতাব হোসেন। তাঁর দাবি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে রফিকুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
মাহাতাব হোসেন বলেন, পরবর্তীতে এডহক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৎকালীন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ঘটনাটি অনেকদিন আগের হওয়ায় তাঁর ভালোভাবে মনে নেই। তবে কোনো অযোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
নিজের নিয়োগের সময় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছিল না—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষা বোর্ড আছে, আমি তাদের কাছে জবাব দেব। সাংবাদিকের কাছে কিছু বলব না। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আমাকে এই চেয়ারে বসিয়ে গেছেন।”
এদিকে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন অভিযোগ করেন, ২০০১ সালে বিদ্যালয়ের পুকুর লিজ বাবদ পাওয়া ৯৮ হাজার ১ টাকা বিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না দিয়ে তৎকালীন সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুল আজিজের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁর পক্ষ থেকে এ অভিযোগের বিষয়ে পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিদ্যালয়ে একই সময়ে দুজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন এবং এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অ.দা.) মো. ওয়াজেদ আলী মৃধা বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী রফিকুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোস্তম আলী হেলালী বলেন, “ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল নিয়ে দুই পক্ষের প্রতিযোগিতার বিষয়টি শুনেছি। শিক্ষা অফিস তদন্ত করবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে চলমান বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
মন্তব্য