প্রকৃত বাবা নন। কিন্তু বাবার মতোই দায়িত্ব নিয়ে গত ২৪ বছরে নিজের খরচে ১১২ জন অসহায় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রুহুল আমিন রুবেল।
বিয়ের কথা পাকাপাকি হলেও অর্থাভাবে অনুষ্ঠান করতে না পারা, কিংবা বরকে সামান্য উপহার দেওয়ার সামর্থ্য না থাকা—এমন দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মেয়ের বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তিনি।
শুধু নিজের জেলা নাটোরেই নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলার অসচ্ছল পরিবারের বিয়েযোগ্য মেয়েদের বাবার ভূমিকা পালন করে আসছেন রুবেল। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগে এ পর্যন্ত ১১২টি পরিবারের কন্যার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বালাদিয়া গ্রামের ১৯ বছর বয়সী সুমাইয়া আক্তার তিথির বিয়ের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
কনের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে বাবা হারান তিথি। এরপর মা জহুরা খাতুন অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়েকে পড়াশোনা করান। একপর্যায়ে মেয়ের বিয়ের বয়স হলেও অর্থাভাবে বিয়ের আয়োজন করার সামর্থ্য ছিল না অসহায় মায়ের।
বিষয়টি জানতে পেরে ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রুবেল। এরপর তিথির বিয়ের যাবতীয় খরচের দায়িত্ব নেন তিনি। উভয় পরিবারের সম্মতিতে রাজশাহীর তালাইমারী এলাকার বাসিন্দা তরিকুল ইসলামের সঙ্গে তিথির বিয়ে ঠিক হয়। দিন ধার্য করা হয় শুক্রবার।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কনের বাড়িতে শুরু হয় বিয়ের আয়োজন। শুক্রবার দুপুরে বরযাত্রী কনের বাড়িতে পৌঁছালে বাবার ভূমিকায় সামনে থেকে সবকিছু সামলান রুবেল। তিনি বরকে সোনার আংটি পরিয়ে বরণ করেন। বর ও বরযাত্রীসহ কনের আত্মীয়স্বজনের জন্য ছিল নানা ধরনের খাবারের আয়োজন। আতিথেয়তা শেষে সম্পন্ন হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
কনের মা জহুরা খাতুন বলেন, মেয়ের বিয়ের খরচ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। রুবেল পাশে দাঁড়ানোয় সেই দুশ্চিন্তা দূর হয়েছে। বাবা না হয়েও নিজের মেয়ের মতো করে দায়িত্ব পালন করায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সুমাইয়া আক্তার তিথিও রুবেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাবাকে হারানোর পর মায়ের পক্ষে একা বিয়ের এত আয়োজন করা সম্ভব ছিল না। রুবেল পাশে দাঁড়ানোয় তাঁর বিয়েটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বর তরিকুল ইসলাম বলেন, বিয়ের আয়োজন ও আতিথেয়তায় তাঁরা মুগ্ধ। নতুন জীবনে রুবেলসহ সবার দোয়া চান তিনি।
নিজের এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে রুহুল আমিন রুবেল বলেন, “বাবার মতো ১১২তম মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে আমি নিজের দায়িত্ব মনে করি। আমার এই কাজে আল্লাহ খুশি হলেই আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করব।”
মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাশে দাঁড়িয়ে বাবার দায়িত্ব পালন করা রুবেলের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে অসহায় পরিবারগুলোর কাছে আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য