পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত ধূলিয়া ইউনিয়ন, শিক্ষা ও সামাজিক ঐতিহ্যের এক উর্বর ভূমি। এই ভূমিরই এক কৃতী সন্তান, শিক্ষানুরাগী ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক ছিলেন মরহুম আফিল উদ্দিন মিয়া, যিনি সবার কাছে ‘সুফিসাব’ নামেই পরিচিত। ধূলিয়া অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এবং আত্মত্যাগ আজও এলাকাবাসীর কাছে এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
১৯১৪ সালে জন্মগ্রহণকারী এই পরহেজগার ও ধর্মপ্রাণ মানুষটি কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, ছিলেন একটি স্বপ্নের কারিগর। তাঁর হাতে গড়া ধূলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ধূলিয়া হাই স্কুল এন্ড কলেজ আজও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছে, যা এই অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছে। স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে, তিনি ছিলেন এমন একজন সমাজসেবক, যিনি নিজের জীবনকে সমাজের কল্যাণে উৎসর্গ করেছিলেন।
তাঁর মহানুভবতার পথচলা থেমে যায় ১৯৬৬ সালের ২৭ জুন। স্কুলের জন্য বিজ্ঞান পরীক্ষাগারের সরঞ্জাম কিনতে বরিশাল থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন। ধারণা করা হয়, স্কুলের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে তিনি দুষ্কৃতিকারীদের হাতে শহীদ হন। তাঁর এই আত্মত্যাগ ধূলিয়ার ইতিহাসে এক করুণ অধ্যায় হয়ে আছে।
তাঁর এই অবদান ও আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে তোরণ এবং স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তির স্মৃতিফলক নয়, বরং ধূলিয়ার শিক্ষা ও সমাজসেবার এক গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। এই স্মৃতিফলকটি সুফিসাবের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় তাঁর পরিবার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উৎসর্গ করা হয়েছে। বিশেষ অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমেদের সন্তান মিজানুর রহমান (টিটু)-এর তত্ত্বাবধানে এটি নির্মিত হয়েছে।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই স্মৃতিফলকটি নতুন প্রজন্মকে আফিল উদ্দিন মিয়ার আদর্শ, কর্ম এবং আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। কালের পরিবর্তন হলেও, ধূলিয়ার এই নীরব সাক্ষী আজও সেই মহান ব্যাক্তির স্মৃতি বহন করে চলেছে, যিনি তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে আজও মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন।
মন্তব্য