২০০৫ সালে বিয়ে হয়েছিল বদলগাছী উপজেলার সাবিনার। এক ছেলে ও এক মেয়ে হওয়ার পর, গ্রামের এক উঠানে পরিবার পরিকল্পনার এক মাঠকর্মীর সাথে দেখা হয় তার। সেখানেই শুরু হয় নতুন এক যাত্রা।
“প্রথমে বড়ি খেতাম। দেড়-দুই বছর পর ৩ বছর মেয়াদি কাঠি (ইমপ্লান্ট) নিলাম। এখনো নিয়মিত সেবা নিচ্ছি। এতে দাম্পত্য জীবন শান্তি ও সুখে আছে,” বলেন সাবিনা।
সাবিনার মতো হাজারো নারী বদলগাছীতে নিয়মিত পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিচ্ছেন। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসের জুন ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, বদলগাছীতে মোট সক্ষম দম্পতি ৪৩ হাজার ৪৬৪ জন। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৮৪১ জন কোনো না কোনো পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যা মোটের ৭৭.৮৬ শতাংশ।
উপজেলায় পদ্ধতিভিত্তিক শতকরা হার—খাবার বড়ি ৩৯.৫৯%, ইনজেকটেবল ১৩.০৫%, কনডম ৬.৫৯%, আইইউডি ০.৭২%, ইমপ্লান্ট ৫.০৮%, স্থায়ী পদ্ধতি (পুরুষ) ১.৫৪% ও স্থায়ী পদ্ধতি (মহিলা) ১১.৪৪%।
জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির (LAPM) লক্ষ্যমাত্রা ২০% হলেও বদলগাছীতে অর্জন ১৮.৭৫%। বর্তমানে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, সদর ক্লিনিক, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
মেডিকেল অফিসার (মা ও শিশু স্বাস্থ্য–পরিবার পরিকল্পনা) ডা. মোছা. তাসকিয়া পারভীন বলেন, “প্রতিদিন গর্ভবতী মা, শিশু ও সাধারণ রোগী আসেন। আমরা নিয়মিত সেবা ও পরামর্শ দিয়ে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর চেষ্টা করছি। ইমপ্লান্ট ও আইইউডি সেবা প্রদান করেও সচেতনতা বাড়াচ্ছি। লক্ষ্য, শতভাগ দম্পতিকে পরিবার পরিকল্পনার আওতায় আনা।”
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুবোধ কুমার আচার্য জানান, “কার্যক্রম সফলভাবে চলছে। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও ওষুধের স্বল্পতা এবং জনবল সংকট রয়েছে, তবে দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি। মাঠ পর্যায়ে মোটিভেশন, স্কুল স্বাস্থ্য শিক্ষা, উঠান বৈঠক ও স্যাটেলাইট ক্লিনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”
মন্তব্য