নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) প্রতি আস্থা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
গত দুই বছরে এখানে অর্ধশতাধিক প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। তরুণ চিকিৎসক ডা. চৈতী মুন্সীর উদ্যোগে এসব প্রসব হওয়ায় এলাকাজুড়ে সরকারি হাসপাতালের প্রতি মানুষের ভরসা ফিরে আসছে। এতে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের প্রবণতাও কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রসূতি রোকেয়া খাতুন জানান, “আমরা ভেবেছিলাম সিজার ছাড়া কোনো পথ নেই। কিন্তু ডা. চৈতীর কারণে আমার সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিল। এখন আমি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছি।” একইভাবে হাসিনা বেগম বলেন, “সিজার হলে অনেক টাকা খরচ হতো। নরমাল ডেলিভারি হওয়ায় খরচও কমেছে, সুস্থ হতেও সময় লাগেনি।”
হাসপাতালের কর্মীরা জানান, ডা. চৈতী রাতে ডিউটিতে থাকলে রোগীর স্বজনরা নিশ্চিন্ত থাকেন। তাঁর মানবিক আচরণ সহকর্মীদেরও অনুপ্রাণিত করছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে সিজারিয়ান অপারেশনের হার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক কারণে অনেক ক্ষেত্রেই অপ্রয়োজনীয় সিজার করা হয়, যা পরিবারকে আর্থিক চাপের মধ্যে ফেলে। অন্যদিকে, স্বাভাবিক প্রসবে খরচ কম, ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম এবং মায়েরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
ডা. চৈতী মুন্সী বলেন, “সব প্রসব সিজারের জন্য নয়। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত, সঠিক চিকিৎসা ও মায়ের প্রতি মনোযোগ—এই তিনটি বিষয়ই নরমাল ডেলিভারির সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) জানান, উপজেলা পর্যায়ে যন্ত্রপাতির ঘাটতি ও জনবল সংকট থাকলেও চিকিৎসক ও সেবিকাদের আন্তরিকতার কারণে মানুষের আস্থা ফিরছে।
স্থানীয়রা মনে করেন, গুরুদাসপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্পন্ন এসব নরমাল ডেলিভারি শুধু চিকিৎসা সাফল্য নয়, বরং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
মন্তব্য