হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন উপজেলা মডেল মসজিদের ছাঁদ এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার ধ্বসে পড়েছে।
প্রথম ধসের ঘটনা ঘটে গত ৬ আগস্ট সকালে। বৃষ্টির মধ্যে ছাঁদ ঢালাই চলাকালে হঠাৎ ছাদের একাংশ ভেঙে পড়ে, এতে একজন নির্মাণ শ্রমিক আহত হন। তবে তখন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
এরপরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএসএল এন্ড আলী (জেভি) তাদের মতো করে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে আবারও ছাঁদ ধ্বসে পড়ে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মসজিদটি উপজেলা পরিষদের সামনের পুকুর ভরাট না করেই কাদা-পানির উপর নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া সাটারিং ফিটিংসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় বারবার ধসের ঘটনা ঘটছে। তারা ঢাকার উচ্চ পর্যায়ের প্রকৌশলী দল দিয়ে তদন্ত করে কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান।
প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার নিপেন বাবু বলেন, “বারবার কেন ধ্বসে যাচ্ছে বুঝতে পারছি না। এর ফলে আমাদেরও ক্ষতি হচ্ছে।” তবে এর বেশি কিছু না জানিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
ঠিকাদার আব্দুল হামিদ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার কোনো গাফিলতি নেই। কেন এমনটা হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।”
এদিকে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথী জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বানিয়াচংয়ের মসজিদটির নির্মাণকাজ চলছেই ঢিমেতালে।
মন্তব্য