admin
২৪ অগাস্ট ২০২৫, ২:১৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নাগেশ্বরীর দুধ কুমর নদীর ভাঙনে দিশেহারা দুকূলবাসী

নদীর ঢেউ খেলানো পানির শব্দ শুনলেই আতঙ্কে বুক ধড়ফড় করে মাযহারুল ইসলাম মাস্টারের। বছর ঘুরতেই যে নদী তার বসতভিটা, উঠান আর একর পর একর আবাদি জমি গিলে খেয়েছে! এক সময় যেখানে তার বাড়ি ছিল, আজ সেখানে বয়ে যাচ্ছে খরস্রোতা দুধ কুমর নদী। চোখ মুছতে মুছতে তিনি বললেন—

“আমাদের সব চলে গেছে। আজ ঘর ভাঙছে, কাল হয়তো জমিও থাকবে না। বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাব? কিভাবে বাঁচবো?”

এমন গল্প শুধু মাযহারুলের নয়; একই বেদনায় কাঁদছে বামনডাঙ্গা ও বল্লভের খাস ইউনিয়নের শত শত পরিবার। কেউ হারিয়েছেন ঘর, কেউ বা ভিটেমাটি, কেউ আবার জমি হারিয়ে কৃষিকাজ থেকে ছিটকে পড়েছেন।

এই দুঃসহ বাস্তবতার প্রতিকার চেয়ে রবিবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় দুধ কুমর নদীর তীরে মানববন্ধনে দাঁড়ান ভাঙনকবলিত মানুষজন। হাত ধরে একে অপরের সঙ্গে জোট বাঁধেন নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ—সবার চোখেমুখে আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার ছাপ।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে আহাজারি করে কৃষক সাইফুর রহমান বলেন—
“আমাদের চাষের জমি সব নদীতে চলে গেছে। এখন আর পরিবারের খোরাক যোগানোর উপায় নেই। প্রতিদিন নদীকে দেখে মনে হয়, আজ না হয় কাল আমাকেও গিলে ফেলবে।”

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক গোলাম রসুল রাজা, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক, বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিনারুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেন, প্রতিবছর ভাঙনের কারণে শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে, অথচ কার্যকর কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও জরুরি ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প হাতে নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

নদী তীরে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন বৃদ্ধা হাসিনা বেগম—
“আমার জীবনভর সঞ্চয় করা ঘরবাড়ি নদী খেয়ে ফেললো। এখন মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। নিজের ভিটে না থাকলে মানুষ কেমন অসহায় হয়, সেটা না দেখলে বোঝা যায় না।”

অন্যদিকে শিক্ষার্থী ইমরান হোসেনের স্বপ্নও ভেঙে গেছে নদীর ভাঙনে। স্কুল থেকে ফিরে যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করত, সে মাঠটিও এখন নদীগর্ভে। সে বলল—
“আমাদের খেলার মাঠটাও নাই। বইয়ের কষ্ট আছে, নদীর ভয় আছে—সব মিলিয়ে ঠিকমতো পড়াশোনাও করতে পারি না।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বহুদিন ধরে ভাঙন ঠেকাতে প্রশাসন শুধু প্রতিশ্রুতির আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বছর বছর দুকূলের গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
“ভাঙন রোধে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো।

মন্তব্য

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সান্তাহারে সেরাদেশ.কম উদ্বোধন করলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন

১

সিংড়ায় দুর্গাপূজায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প

২

লালপুরে অটোভ্যান চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৩৭ হাজার টাকা

৩

সিংড়া স্মার্ট প্রেসক্লাবকে ৫০টি বই উপহার

৪

বাগাতিপাড়ায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে নাটোরের জেলা প্রশাসক

৫

সান্তাহারে সর্বজনীন রাধামাধব মন্দির পরিদর্শনে জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ

৬

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বগুড়ায় ২ হাজার ৩০০ নারীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের শাড়ি বিতরণ

৭

নাটোরে বাস-বালুবোঝাই ট্রাকের সংঘর্ষ নিহত -১৪

৮

আত্রাইয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ

৯

বাগাতিপাড়ায় মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা, উপকরণ পেল ১০০ শিক্ষার্থী

১০

নেত্রকোনার সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে নাটোরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

১১

ওমরাহ পালন করতে গিয়ে বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু

১২

নওগাঁয় মণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক অনুদান দিলেন বিএনপি নেতা মিঠু

১৩

সান্তাহার স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের উদ্যোগ, মাপজোখ শুরু 

১৪

বাঘার আড়ানীতে ভেজাল গুড় তৈরির কারখানায় অভিযান, সরঞ্জাম ধ্বংস বস্তা চিনি জব্দ

১৫

সময়মতো হাসপাতালে উপস্থিত না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ হুইপ দুলুর

১৬

করতোয়াকে হারিয়ে মিডিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন যমুনা একাদশ

১৭

আইডি কার্ড থেকে এআই কর্নার, এক শিক্ষকের উদ্যোগে বদলে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের চিত্র

১৮

সিংড়ায় অনলাইন জুয়ার ফাঁদে নিঃস্ব, বাড়ছে অপরাধ

১৯

আত্রাইয়ে মহাসড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিবেশ গাছের চারা রোপণ

২০