সমাজের পরিবর্তন, ন্যায় ও মানবিকতার পথে দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে চলা একজন মানুষ মো. আরিফুল ইসলাম তপু। একইসঙ্গে তিনি প্রগতিশীল সমাজ-চিন্তক, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সামাজিক সংগঠনের কর্মী। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র— সর্বত্রই তার চেষ্টা ইতিবাচক অবদান রাখার।
শেকড় থেকে উঠে আসা
১৯৮৬ সালের ১৭ নভেম্বর নাটোর জেলার বাগাতিপাড়ার সোনাপাতিল মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা মরহুম খলিলুর রহমান ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং মাতা মোছা: আছিয়া বেগম গৃহিণী হয়েও ২০২৫ সালে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে “সফল জননী” সম্মাননা অর্জন করেন। ধর্মভীরু ও নৈতিকতায় বিশ্বাসী এই পরিবারে পাঁচ সন্তান (সকলে উচ্চ শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত ) এর মধ্যে তপু ছিলেন তৃতীয় এবং প্রথম পুত্র। একান্নবর্তী মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা তাকে শিখিয়েছে পারিবারিক বন্ধন, মানবিক মর্যাদা ও দায়িত্বশীলতার শিক্ষা।
শিক্ষাজীবন
তপুর শিক্ষাজীবনের শুরু ১৯৯১ সনে উপজেলা পরিষদ গেট সংলগ্ন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। পরবর্তীতে বাগাতিপাড়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে মানবিক বিভাগে এসএসসি পাস করেন। ২০০৩ সালে বাগাতিপাড়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীতে ২০০৭ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে বিএসএস (অনার্স) সম্পন্ন করেন। এরপর ২০০৮ সালে ঢাকা কলেজ থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
সাংবাদিকতায় পথচলা
খুব অল্প বয়সেই লেখালেখির প্রতি ঝোঁক তৈরি হয় তার। ২০০০ সালে দৈনিক পত্রিকার “চিঠিপত্র” কলামে লেখার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। পরে ২০১৫ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন দেশের প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাক, উত্তরবঙ্গের প্রবীণ পত্রিকা দৈনিক সানশাইন, সাপ্তাহিক সোনার বাংলা এবং ইংরেজি দৈনিক The Business Standard-এ। নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ ও কলাম লেখার মাধ্যমে ইতোমধ্যেই তিনি পাঠকের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময় পেয়েছেন প্রশিক্ষণ ও পুরস্কার। সর্বশেষ তিনি ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই নাটোর জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন কর্তৃক “দৈনিক এই নাটোর” নামে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকার ডিক্লারেশন গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি এর সম্পাদক ও প্রকাশক।
শিক্ষা ও পেশাজীবন
সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষা পেশায়ও সমানভাবে নিয়োজিত। ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে বাগাতিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবই নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও সমাজ পরিবর্তনের শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা
সামাজিক উন্নয়নেও তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি “নিরাপদ সড়ক চাই” বাগাতিপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক, উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মালঞ্চী বাজারের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও সমন্বয়ক এবং মানবাধিকার কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। তার এই বহুমুখী কর্মকাণ্ড সমাজের সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে।
ব্যক্তিজীবন
২০১৩ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।সেই সময় তার স্ত্রী অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল, পরবর্তীতে তার সহযোগিতা অনুপ্রেরণায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে তার সুখী সংসার। পারিবারিক জীবনে তিনি যেমন দায়িত্বশীল, তেমনি পেশাগত ও সামাজিক দায়িত্বও সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করে চলেছেন।
সমাজ, শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও সামাজিক সংগঠনে একযোগে কাজ করে যাওয়া মানুষদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। মো. আরিফুল ইসলাম তপু তাদের মধ্যেই একজন, যিনি বহুমুখী প্রতিভা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তার জীবনপ্রবাহ অনেক তরুণের জন্য হতে পারে অনুপ্রেরণা— প্রমাণ হিসেবে যে, অধ্যবসায়, সততা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই একজন মানুষকে পূর্ণতা দেয়।
মন্তব্য