রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় ‘ফুড লাভার’ নামের একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে ফিল্মি স্টাইলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব বিরোধের জেরে দোকানে প্রবেশ করে হাতুড়ি ও চাপাতি দিয়ে দোকান মালিক বোরহান উদ্দিনের উপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। স্থানীয় জনতা তিন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করলে পরদিন তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুরে চারঘাট উপজেলার ডাকরা গ্রামের মো. প্রিন্স আহম্মেদ (২২) এক নারীসহ ‘ফুড লাভার’ দোকানে আসেন। তবে তিনি কোনো খাবার অর্ডার না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে গল্পে মেতে থাকেন। এ সময় দোকানের কর্মচারীরা অর্ডার জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং হুমকি দিয়ে চলে যান।
ঘটনার তিন দিন পর, ২৭ সেপ্টেম্বর (শনিবার) বিকেলে প্রিন্স আহম্মেদ কালো হেলমেট পরিহিত অবস্থায় দুই সহযোগী—মোহামিনুল ইসলাম নয়ন (১৮) ও জনি আহম্মেদ (২০)—কে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে দোকানে ফেরেন। দোকান মালিককে একা পেয়ে, ব্যাগ থেকে চাপাতি ও হাতুড়ি বের করে তারা তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
দোকানের মালিক কৌশলে হামলাকারীদের বাইরে নিয়ে এলে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসে। এলাকাবাসী তিন যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ সময় হামলায় ব্যবহৃত চাপাতি, হাতুড়ি ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, “পূর্বের ঘটনার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে দোকান মালিককে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল। সৌভাগ্যক্রমে তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনায় বাঘা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
মামলা নম্বর: বাঘা থানা মামলা নং-২০, তারিখ: ২৭-০৯-২০২৫
মামলাকারী: বোরহান উদ্দিন, মালিক – ফুড লাভার
আসামিরা প্রিন্স আহম্মেদ (২২), ডাকরা গ্রাম, চারঘাটের প্রিন্স আহমেদ ও হামিনুল ইসলাম নয়ন (১৮), সোনাদহ গ্রামের জনি আহমেদ
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার এই ভয়াবহতা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী ফাস্ট ফুড ও অন্যান্য দোকানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য