নাটোরের গুরুদাসপুরে বাল্যবিয়ে আয়োজনের দায়ে বর বাহারুল ইসলামকে (২৫) ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আফরোজ এই আদেশ প্রদান করেন।
উপজেলার নাজিরপুর নতুনপাড়া গ্রামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। সেখানে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইতি খাতুনকে (পিতা: শামসুল হক) বাল্যবিয়ের হাত থেকে উদ্ধার করা হয়। ইতি জানান, পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিয়ের প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল। তবে প্রশাসনের সময়মতো হস্তক্ষেপে তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জানান, এখন তিনি স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন।
আটক বর বাহারুল ইসলাম গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের কুমারখালী গ্রামের নবীর উদ্দিনের ছেলে এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব আলী জানান, মেয়ের পরিবারকে বারবার নিষেধ করা হলেও তারা বিয়ের আয়োজন থেকে বিরত থাকেনি।
নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ইতি একজন মেধাবী ও সক্রিয় শিক্ষার্থী। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই বিয়ের বিরোধিতা করে আসছিল। তিনি আরও জানান, এই ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তৎক্ষণাত বরকে দণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং মেয়ের পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকে।
মন্তব্য