নওগাঁর জেলার আত্রাই উপজেলার ৮ নং আটকালু পাড়া ইউনিয়নের বন্দাইখাড়া সিদ্ধেশ্বরীর মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা সরকারি খাদ্য গুদামটি দ্রুত সংস্কার করে চালুর দাবিতে স্থানীয় জনগণ এবং কৃষকরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন।
বছরের পর বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় কৃষকদের খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিদের দাবি-উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এই বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপ কাম্য, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গুদামটি চালু হয় এবং কৃষকের দুর্ভোগের অবসান ঘটে।
কৃষিপ্রধান আত্রাই অঞ্চলের মধ্যে ৮ নং আটকালু পাড়া ইউনিয়ন অন্যতম প্রধান শস্য উৎপাদনকারী এলাকা। ধান, গমসহ অন্যান্য শস্য এখানে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয়। কিন্তু ফসল সংরক্ষণের জন্য বন্দাইখাড়া সিদ্ধেশ্বরীর মোড়ের এই খাদ্য গুদামটি দীর্ঘ দিন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
জানা যায়, গুদামটি অব্যবহৃত থাকায় স্থানীয় কয়েক হাজার কৃষককে তাদের উৎপাদিত খাদ্যশস্য হয় কম দামে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে, না হয় নিজেদের বাড়িতে অনিরাপদ ও অনুপযোগী স্থানে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে একদিকে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে গুদামের অভাবে বর্ষা মৌসুমে শস্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। সরকারিভাবে শস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে।
৮ নং আটকালু পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, বন্দাইখাড়া সিদ্ধেশ্বরীর মোড়ের এই খাদ্য গুদামটি চালু হলে আমাদের ইউনিয়নের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে উপকৃত হবেন। এটি চালুর জন্য আমরা বছরের পর বছর ধরে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আজও কোনো ফল মেলেনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন তরফদার বলেন, এই গুদামটি চালু হলে শুধু কৃষক নয়, সরকারের খাদ্য সংগ্রহ কর্মসূচিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। আমি জোর দাবি জানাচ্ছি, উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য নিয়ন্ত্রক দ্রুত এই পরিত্যক্ত গুদামটি পরিদর্শন করুন এবং উপর মহলে প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ করছি, যাতে সরকার জরুরি ভিত্তিতে এর সংস্কার ও চালুর ব্যবস্থা করে। আর কতদিন কৃষকের কষ্ট দেখতে হবে?।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফসল তোলার পর খাদ্যশস্য সংরক্ষণের জন্য গুদাম না থাকায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা অবিলম্বে এই গুদামটি চালুর জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের নজরে এই
পরিত্যক্ত গুদামের বিষয়টি আসা মাত্রই তারা যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেন, সেই প্রত্যাশাই করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি, আগামী মৌসুম আসার আগেই যদি গুদামটি চালু হয়, তবেই এই অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটবে এবং সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।
সাংবাদিক মোঃ আব্দুস ছালাম
উপজেলা প্রতিনিধি, আত্রাই, নওগাঁ।
০১৭২০৯৬৯৭৭২
মন্তব্য