কক্সবাজারে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সহায়তায় ব্র্যাক বাস্তবায়িত ‘PLEASE’ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ।
গত ২৯ অক্টোবর (বুধবার) তাঁরা প্রকল্পের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং কর্মরত নারী ও তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
‘PLEASE’ (Plastic Waste Recycling for Livelihood, Environment and Sustainability Enhancement) প্রকল্পের লক্ষ্য—প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে রূপান্তর করা। উদ্যোগটি নাগরিকদের বর্জ্য পৃথকীকরণে সচেতন করে, নিরাপদ সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল প্লাস্টিক আসবাবপত্র তৈরি করছে।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “বিএনপি তার ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামতের এজেন্ডায় পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দেশব্যাপী বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, নিরাপদ নিষ্পত্তি ও পুনর্ব্যবহারের একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা আমাদের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান বাংলাদেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রায় অদৃশ্য। রাস্তা, নদী ও খালের পাশে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, রোগবালাই ছড়াচ্ছে, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এই অচলাবস্থা ভাঙতে চায়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণে বর্জ্য হবে সম্পদ।”
ড. হায়দার প্রকল্পের নারী ও তরুণ কর্মীদের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ বিশেষত নারী ও তরুণেরা বিকল্প আয়ের সুযোগ পাচ্ছে। একদিকে পরিবেশ রক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান—এটাই টেকসই উন্নয়নের প্রকৃত রূপ।”
তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত ও জনগণ একত্রে কাজ করে ‘Green Bangladesh’ গড়ে তোলাই হবে লক্ষ্য।
ড. হায়দার বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের এজেন্ডা শুধু রাজনৈতিক সংস্কার নয়, এটি একটি জাতীয় পুনর্জাগরণের রূপরেখা—যেখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি একে অপরের পরিপূরক হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ একদিন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে, যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জনগণের অংশগ্রহণ একত্রে কাজ করে।
মন্তব্য