অসময়ে টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। অবিরাম বৃষ্টিতে মাঠের পর মাঠ পানিতে ডুবে থাকায় নষ্ট হচ্ছে রোপা আমন ধান। এতে হতাশায় পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ধামাইনগর, সোনাখাড়া, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ব্রহ্মগাছা, নলকা, ঘুড়কা ও ধুবিল ইউনিয়নের বেশিরভাগ কৃষিজমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় ধানখেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, এভাবে থাকলে ধান গাছের গোড়ায় পচন ধরতে শুরু করেছে।
কৃষকেরা জানান, আগাম আমণ ধান কাটা শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ ‘মন্থোরা’র প্রভাবে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে প্রায় সব খেত পানির নিচে চলে গেছে। সহসা আবহাওয়া শুষ্ক হওয়ার কোন আলামত নাই। এতে ডুবে যাওয়া ও সদ্য কেটে মাঠে রাখা ধান পচতে শুরু করেছে। ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে গ্রামীণ সড়ক ও হাটবাজারেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
সেনগাতী গ্রামের কৃষক শাহ জামাল ও পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধান পেকে গেছে, এখন কাটার সময়। শাহজামাল দেখালেন তার কেটে রাখা ধানের আঁটি পানিতে ভাসছে। তিন দিন পার হয়ে গেছে। আজকালের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে রোদ না উঠলে সব ধান পচে যাবে বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
পাঙ্গাসী এলাকার অপর কৃষক মো. আবদুল করিম বলেন, বৃষ্টি আর বাতাসে ধান মাটিতে পড়ে ডুবে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে পানি না নামলে ধানগাছ পচে যাবে, দায়দেনা পরিশোধ তো দুরের কথা কী খেয়ে বাঁচব সেটাই এখন বড় চিন্তা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, চলমান বৃষ্টিতে প্রতিটি ইউনিয়নে রোপা আমন ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ পানি নেমে গেলে বোঝা যাবে। পানির নিচে থাকা ধানগাছ বেশিদিন টিকবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, পার্শ্ববর্তী ভারতের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড় মন্থরার প্রভাবে এই সময়ে ঝড়ো বাতাস বৃষ্টি হচ্ছে। যা আমন ধানের জন্য ক্ষতিকর। আমরা মাঠ পর্যায়ে নজর রাখা ও কৃষকদের পরামর্শ দেয়া অব্যাহত রেখেছি। পানি দ্রুত সরে গেলে ক্ষতি কিছুটা কম হতে পারে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য