হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্পের কোটি টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রকল্প পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে হিসাব গরমিল, বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ, প্রকল্প দখলের চেষ্টা এবং হুমকি-ধামকির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খৈয়াজোরা সেচ প্রকল্প কমিটির ম্যানেজার মো. সাইদুল ইসলাম।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলার ৩নং দক্ষিণ-পূর্ব ও ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের রায়লা, খৈয়াজোরা ও দিঘবাগ সেচ প্রকল্পে ২৭ জন শরিক মিলে বিনিয়োগ করেন। প্রত্যেকে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা করে মোট ৩১ লাখ ৫৯ হাজার টাকা গ্রহণের পরও প্রকল্প কমিটি পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়। শরিকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার মধ্যে মাত্র ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি ৪৭ হাজার টাকা ও প্রকল্পের মুনাফা আজও পরিশোধ করা হয়নি।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বিবাদীরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করে আগামী বছরের জন্য এসব প্রকল্প এককভাবে নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে প্রকল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমাধানের কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে শরিকদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন এবং প্রকল্প নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কৃষকদের ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার কথা বলছেন। এতে এলাকায় উদ্বেগ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, শীত মৌসুমে সেচ প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে হাজারো বিঘা জমি পানির অভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক এবং রাজনৈতিক নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রকল্পের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং বিরোধ নিরসনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
২৯ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) ইউএনও বরাবরে দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা উপজেলা প্রশাসন সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযোগের অনুলিপি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিএডিসির প্রকৌশলী, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে সেচ প্রকল্পের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেলে কৃষকের স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাবে।”
মন্তব্য