রাজশাহীর বাঘায় উপজেলায় শখের বসে প্রথম বারের মতো শুরু করেছে কলা গাছ থেকে ফাইবার উৎপাদন। যা বিদেশে রপ্তানি করে আয় করছেন বৈদেশিক মুদ্রা।
বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকায় এই উদ্ভাবনী এই কার্যক্রম শুরু করেছেন স্থানীয় চার তরুণ উদ্যোক্তা- শানাউল কবির (শামিম), আব্দুস সালাম, স্বপন ও হাসমত আলী (ময়না) যৌথভাবে এ ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। গত ২০ অক্টোবর থেকে কলা গাছ প্রক্রিয়াজাত করে এই ফাইবার উৎপাদনের কাজ শুরু করেন।
প্রথমে তারা মাঠের বিভিন্ন কলা বাগান থেকে কলার গাছ সংগ্রহ করে তা কেটে কোষ ছাড়িয়ে নেয়, কোষ ছাড়িয়ে নেওয়ার পরে সেই কোষ গুলো ছোট ছোট আকার করে কেটে নেওয়া হয়। পরে আধুনিক বিদেশি মেশিনের মাধ্যমে ওই কোষ গুলো থেকে আঁশ বের করেন। শেষে পানিতে ধুয়ে রোদ্রে শুকিয়ে তৈরি করেন সোনালী দামি ফাইবার বা শক্ত আশ।
উদ্যোক্তা ছানাউল কবির জানান, আমি এই বিষয় টা প্রথমে অনলাইনে ইউটিউব এ দেখি, দেখার পর আমার ইচ্ছা জাগে যে এই কাজটি করলে হয়তো আমরা ভালো সফলতা অর্জন করতে পারবো কিন্তু এই কাজের জন্য যে মেশিন টি দরকার তার দাম ছিলো অনেক যা একার পক্ষে কেনা সম্ভব না পরে আমার প্রতিবেশী ৩ জনের সাথে আলোচনা করি, পরে তাদের এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো ও দেখানোর পরে তারা আগ্রহ প্রকাশ করে কিছু দিন পরে আমরা এই মেশিন দি ক্রয়করি এবং এক সঙ্গে আমরা ৪ জন এই কাজটি পরিচালনা করছি।
তারা আরো বলেন, কলার গাছের অপ্রয়োজনীয় অংশ ব্যবহার করে আমরা এই ফাইবার তৈরি করছি, যে ফাইবার বা আশ পরবর্তীতে দামি টুপি, ব্যাগ, দড়ি, জুতা ও পোশাক শিল্পে ব্যবহার করা যাবে। এবং কলা গাছ দিয়ে ফাইবার বা আশ বের করার পর মেশিন থেকে কলা গাছের যে বর্জ্য বের হয় সেই গুলো আমরা বিশেষ জৈব সার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবো । এ উদ্যোগ সফল হলে এলাকার অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সেই সাথে তারা বলেন আমরা যদি সরকারি ভাবে কিছু সহযোগিতা পেতাম তাহলে আমরা আরো সুন্দর ভাবে এই কাজ চালিয়ে যেতে পারবো, আমাদের সব থেকে বড় প্রতিকূলতা হলো আমরা ঢাকার এক মাধ্যম ব্যবহার করি এই ফাইবার বিক্রির জন্য তিনি পরে সেটা চীনে রপ্তানি করেন, কিন্তু যদি এই মাধ্যম টা বাদে সরকারি ভাবে সরাসরি চীনে পাঠাতে পাড়তাম তাহলো আরো বেশি উপকৃত হোতাম এ বিষয়ে আমরা সরকার কে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।
স্থানীয়ভাবে কলা চাষ বেশি হওয়ায় কাঁচামালের কোনো সংকট নেই বলেও তারা উল্লেখ করেন। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে অভিনব ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলার কৃষি অফিসার শফিউল্লাহ সুলতান জনি বলেন, আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আমাদের বাঘা উপজেলায় কিছু উদ্যোক্তা কলাগাছ থেকে ফাইবার উৎপাদন করছে আমরা তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি এই উদ্যোগটি খুবই সম্ভাবনাময় যার থেকে আমরা প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব এ বিষয়ে আমাদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যা যা করণীয় রয়েছে সেগুলো আমরা করব ইনশাআল্লাহ্ ।
মন্তব্য