নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক ডেন্টাল মেশিন স্থাপন করা হলেও দন্ত চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। ফলে দাঁতের ব্যথা থেকে শুরু করে নানা সমস্যা নিয়ে আসা রোগীদের শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার চার দশক পর চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক ডেন্টাল চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের বরাদ্দ আসে। ২৭ ফেব্রুয়ারি সেগুলো স্থাপনও করা হয়। কিন্তু জনবল সংকট ও ডেন্টাল সার্জন না থাকায় এখনও পর্যন্ত চালু হয়নি সেবা।
এদিকে প্রতিদিনই দাঁত ব্যথা, ক্যাভিটি বা মাড়ির সংক্রমণসহ নানা সমস্যায় মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলেও জানতে পারে—ডেন্টাল ডাক্তার নেই। ফলে কেউ ফিরে যাচ্ছেন, কেউ আবার বাধ্য হয়ে প্রতিবেশী জেলা শহরে গিয়ে বেশি খরচে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জামনগরের মাকসুদুর রহমান (৫০) বলেন, “সরকারি হাসপাতালে ডেন্টাল মেশিন আছে শুনে এসেছিলাম। এসে দেখি ডাক্তারই নেই। শেষে শহরে গিয়ে দাঁত তুলতে হলো—টাকাও বেশি খরচ হয়েছে।” একই অভিযোগ করেন আসমা খাতুন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য শহরে গিয়ে চিকিৎসা করানো কঠিন। এখানে সেবা থাকলে অনেক সুবিধা হতো।”
স্থানীয়দের দাবি—সরঞ্জাম বসিয়ে রেখে শুধু ধুলায় পড়িয়ে রাখা হচ্ছে। এতে সরকারি অর্থ অপচয় হচ্ছে, আর জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক জানান, “ডেন্টাল মেশিন বসানো হয়েছে, কিন্তু ডেন্টাল সার্জন এখনো পদায়ন হয়নি। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মাদ মুক্তাদির আরেফীন ‘দৈনিক এই নাটোর কে বলেন, “সরকারিভাবে চিকিৎসক পদায়ন আপাতত বন্ধ। তবে ডেন্টাল ইউনিটসহ স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে অস্থায়ী উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
মন্তব্য